ভাষার অধিকার পেলেও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত নাগরিকরা: জামায়াত আমির

ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে মাতৃভাষার অধিকার অর্জিত হলেও দেশের নাগরিকরা এখনও মৌলিক ও মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০০৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রতিষ্ঠিত কায়েমি স্বার্থবাদী সরকারগুলো জনগণের অধিকার গায়ের জোরে চেপে ধরতে চেয়েছিল। এর বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ হয়েছিল। সেই বিদ্রোহের ফলেই আমরা আমাদের ভাষার অধিকার পেয়েছি। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমরা আমাদের নাগরিক অধিকারগুলো পাইনি। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১-এও পাইনি, পরবর্তীতে ১৯৭২ থেকে ২০২৬ এ আজকের দিন পর্যন্ত নাগরিকদের জন্য তাদের অধিকারগুলো এখনও অধরা রয়ে গেছে।
সংসদের বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানুষের অধিকারের জন্যই লড়াই করে। এই লড়াই ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে একটি মানবিক সমাজ কায়েম না হয়। যেখানে মানুষ ন্যায়বিচার পাবে, দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে, চাঁদার কলুষিত কালো থাবা থেকে মানুষ মুক্তি পাবে এবং কেউ কারও ওপর কোনো অবিচার করার দুঃসাহস দেখাবে না।
এর আগে, রাত ১২টা ১০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট থেকে নবনির্বাচিত সাংসদরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে তারা আজিমপুর কবরস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কবরস্থানে পৌঁছে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়। পরে কোরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হয় এবং শহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জামায়াত আমির নিজেই। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।