Advertisement

গ্যাসের দাম না কমানো হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি সেলিম উদ্দিনের

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
গ্যাসের দাম না কমানো হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি সেলিম উদ্দিনের
জামায়াত নেতা ও ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

গ্যাসের দাম কমানো না হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য হ্রাস এবং বিদ্যুৎ বিলে যুক্ত ‘হিডেন চার্জ’ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানান।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা রাজউক কলেজের সামনে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, তীব্র গ্যাস সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উত্তরা অঞ্চলের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য কমানো এবং বিদ্যুৎ বিলে যুক্ত অতিরিক্ত হিডেন চার্জ প্রত্যাহার করা হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। অন্যথায় গ্যাসের দাম কমানোর দাবিতে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই আন্দোলনে উত্তরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যার ধারাবাহিকতা ২০১৮ সাল থেকেই শুরু হয়েছিল। আন্দোলনের প্রতিটি পর্বে জামায়াতে ইসলামী শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাবেক শাসকদলের সমালোচনা করে সেলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীকে অন্যায়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সেই সাথে জুলাই আন্দোলনের সময় কোমলমতি শিশুদের ওপর চালানো সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদকে কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সীমাবদ্ধ না রেখে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এর রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

দুর্নীতি নির্মূলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, দেশে শতভাগ দুর্নীতি দমন করা সম্ভব হলে জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার জুলাইয়ের চেতনার কথা বললেও বাস্তব ক্ষেত্রে তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আগামী ৫ আগস্ট—যাকে তিনি ‘৩৬ জুলাই’ ও ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেন—সেদিন সকাল ১০টায় পল্টনে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে উত্তরা রাজউক কলেজের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জসীমউদ্দীন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, উত্তরা পূর্ব অঞ্চলের পরিচালক জামাল উদ্দিন, সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম, অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, উত্তরা মডেল থানা আমির ইব্রাহীম খলীল, উত্তরা পশ্চিম থানা আমির মাজহারুল ইসলাম, উত্তরা পূর্ব থানা আমির মাহফুজুর রহমান, দক্ষিণখান পশ্চিম থানা আমির আবু সাঈদ শাহনেওয়াজ, দক্ষিণখান উত্তর থানা আমির মোস্তাকিম আলম ও উত্তরখান পূর্ব থানা আমির ইসরাঈল হোসেন প্রমুখ।