স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে মিরাজ শেখের সন্ধান চায় জেডিপি

বাগেরহাটের জেলে নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধান দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মিরাজ শেখের সন্ধানের দাবিতে এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিলের প্রতিবাদে আয়োজিত ‘গণপ্রতিবাদ সভায়’ এ আহ্বান জানান জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।
মিরাজ শেখ (৩০) বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মণি ঠোটা এলাকার বাসিন্দা ও জেলে। মিরাজ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান।
গত ১০ এপ্রিল মিরাজ শেখকে সাদাপোশাকে থাকা কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ধারী কয়েক ব্যক্তি জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন মিরাজ শেখের পরিবারসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী। এরপর চার মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মিরাজের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ আরও বলেন, ‘মিরাজ শেখের মতো বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকের সন্ধান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। আর সরকারের পক্ষে এই দায়িত্বের কেন্দ্রীয় জায়গায় রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মিরাজ শেখের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য এবং দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখে প্রতীয়মান হচ্ছে, এ ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্রমান্বয়ে দেশে গুমের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরি করছে। এর অংশ হিসেবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন নামে র্যাব ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মিরাজ শেখদের গুম করে আমাদের টেস্ট করা হচ্ছে।’
অবিলম্বে মিরাজ শেখকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার পরিবারের ওপর হয়রানি বন্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান জেডিপির আহ্বায়ক।
সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে যে আইন পাস করা হচ্ছে, তা গুমকারীদের উৎসাহিত করবে। অনতিবিলম্বে প্রস্তাবিত আইনের তদন্ত ও বিচার-সংক্রান্ত বিধানগুলো সংশোধন করতে হবে এবং বাতিল হওয়া অধ্যাদেশের বিধানগুলো পুনর্বহাল করতে হবে।’
গণপ্রতিবাদ সভায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন স্টুডেন্ট ফর সার্বভৌমত্বের আহ্বায়ক মো. জিয়াউল হক, জনতার দলের শিক্ষা সম্পাদক আরাফাত চৌধুরী, জনজোট বিপ্লবী মঞ্চের আহ্বায়ক মোজাম্মেল মিয়াজি, বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলনের সম্পাদক মোহাম্মদউল্লাহ মধু, ইনকিলাব মুভমেন্টের প্রধান সমন্বয়ক মনিরুজ্জামান সোহেল, বিশিষ্ট আইনজীবী খাজা ওয়ালিউল্লাহ মাসুদ, ইনসাফের আন্দোলন বাংলাদেশের আহ্বায়ক শামিম হাসান, বাংলাদেশ আজাদ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান কর্নেল ফেরদৌস আজিজ, এনডিপির মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনি ইহসান এবং বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূইয়া।
এ ছাড়া সভায় বক্তব্য দেন জেডিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত, যুগ্ম আহ্বায়ক ফুয়াদ জামান, যুগ্ম সদস্য সচিব মাহতাব হোসেন সাব্বির, আইমান আন্দালিব, নাঈম আল ইসলাম ও ইয়াসিন আরাফাত রাজ, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফ প্রমুখ।


