logo

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপি: মঈন খান

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিএনপি: মঈন খান

তারেক রহমানের নেতৃত্বে দ্রুত সময়ের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। 

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নরসিংদীর পলাশে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দলটির জন্ম। তাই স্বাধীনতার চেতনা ও জাতীয়তাবাদ রক্ষায় বিএনপিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য শক্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় বিএনপি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনও মুক্তিযুদ্ধের মূল আদর্শ—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পূর্ণভাবে অর্জন করতে পারেনি। বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন এখনও অনেকাংশে অপূর্ণ রয়ে গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। তবে প্রতিবারই দেশের জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সমাজ থেকে অন্যায় ও বৈষম্য দূর করা এবং একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে সেই লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হয়েছে। 

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের সময়ে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন এবং ১৯৮২ সালের সামরিক শাসনের কথা উল্লেখ করে মঈন খান বলেন, এসব পদক্ষেপ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করেছে।

২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কাল নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সময়ে স্বৈরাচারী শাসনের কারণে জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং সমাজের বিভিন্নস্তরে বৈষম্য আরও গভীর হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার জনগণের অধিকার সংকুচিত করেছে। 

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এখনও দেশে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান— ধনী-গরিবের বৈষম্য, ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের ব্যবধান, আঞ্চলিক বৈষম্য এবং নারী-পুরুষের মধ্যে অসমতা। বিশেষ করে পাহাড়ি, উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণ এখনও সমান সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।