চাঁদাবাজবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা সময়ের দাবি : জামায়াত আমির

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লেগুনাচালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেই সঙ্গে চাঁদাবাজবিরোধী আরেকটি আন্দোলন গড়ে তোলা সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্টে জামায়াত আমির বলেন, ‘গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একজন গাড়িচালককে চাঁদা লেনদেনের ঘটনায় চাঁদাবাজরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
‘চাঁদার এ সংস্কৃতিকে এমনভাবে জাতীয়করণ করা হয়েছে, যেন চাঁদা না দেওয়াই অপরাধ! নেতৃত্বের জায়গা থেকে যখন চাঁদাবাজির বৈধতা দেওয়া হয়, তখন এ দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সকলের ওপরেই বর্তাবে। মাঝখানে নিরীহ জনগণের জীবন এভাবেই কি ঝরে পড়বে?’
ক্ষোভ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘না, আমরা তা মেনে নিতে পারি না, মেনে নেব না। প্রিয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদাবাজবিরোধী আরেকটি আন্দোলন গড়ে তোলা এখনই সময়ের দাবি।’
‘দেশকে যারা ভালোবাসেন, তাদের সকলের প্রতি আমাদের একই কথা, চাঁদাবাজদের হাত থেকে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করতে হলে সম্মিলিতভাবে লড়তে হবে। আমরা লড়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতি
এদিকে লেগুনাচালক নুরে আলমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়েছেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ চলে আসছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণপরিবহন চালকদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সংস্থার নাম ভাঙিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভাবমর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি অথবা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি জুমআ বার বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোড সড়কে লেগুনাচালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পতিত জালিম সরকারের পতনের পর জনপ্রত্যাশার নতুন বাংলাদেশে এই হত্যাকাণ্ড কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’
তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটি চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার বা অন্য যেকোনো কারণেই সংঘটিত হোক না কেন, এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে যাত্রাবাড়ী-চিটাগাং রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
বিবৃতি বলেন, ‘খায়রুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার ওপর নির্ভরশীল অসহায় পরিবার, ছোট্ট শিশু কন্যা ও স্বজনদের আহাজারি প্রমাণ করে, এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন-সম্ভাবনার নির্মম পরিসমাপ্তি। এ ধরনের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করে।’
তিনি নিহত খায়রুলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
জামায়াত সেক্রেটারি দেশব্যাপী পরিবহনসহ সব সেক্টরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।