২০ বছর পর চট্টগ্রামে তারেক রহমান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় বিএনপির সিনিয়র নেতারা ও চট্টগ্রামের মহানগরীর নেতারা তাকে স্বাগত জানান।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ চট্টগ্রামের শীর্ষ নেতাদের বিমানবন্দরে দেখা গেছে।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক প্রত্যাশা। ইতোমধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন, গেঞ্জি-টুপি ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন নেতাকর্মীরা।
মহাসমাবেশ উপলক্ষে কয়েকদিন ধরে পলোগ্রাউন্ড মাঠে চলছে প্রস্তুতি। মাঠের পশ্চিম পাশে প্রায় দুই হাজারের বেশি বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল মঞ্চ। আয়োজকদের দাবি, এই মঞ্চে একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসতে পারবেন। মঞ্চের সামনে রাখা হচ্ছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার।
মাঠ ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক মাইক ও ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স। পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত এলাকায় ব্যবহৃত হবে প্রায় ২০০টি মাইক।
শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠ সমতল করা হয়েছে, চারপাশে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যারিকেড। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের গাড়ি দিয়ে মাঠে পানি ছিটানো হয়। একের পর এক গাড়িতে করে মাঠে প্রবেশ করছেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এদিকে তারেক রহমানের সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। নগর পুলিশ জানিয়েছে, সমাবেশ শুরু আগে মঞ্চ-মাঠ এবং আশপাশের এলাকা ডগ স্কোয়াড দিয়ে নিরীক্ষা করা হবে। চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানার পুলিশের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন সিএমপি এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা। থাকবেন সোয়াত টিম, এপিবিএন, মেট্রোপুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা। পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাদাপোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ সদস্যরা। সমাবেশ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের ব্যস্ততম সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করবে ডিসি ট্রাফিক বিভাগ।
নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে সমাবেশ চলাকালীন কোনো ধরনের ‘ড্রোন’ ওড়ানো বা ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে রাখা হয়েছে গ্রিন জোন হিসেবে।
তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রামে আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে।