শপথ গ্রহণের পর দিনই শহীদ নাইমার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মাহমুদা মিতু

শপথ গ্রহণের পর দিনই জুলাইয়ের শহীদ নাইমা তাসনিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে খোঁজখবর নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।
সোমবার (৪ মে) বিকাল ৩টায় তিনি শহীদ পরিবারের বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নেন।
এ সময় শহীদ নাইমার মা তার মেয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন এবং দেশ সংস্কারের জন্য তার তীব্র আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন।
শহীদ নাইমা তাসনিমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন ডা. মাহমুদা মিতু। সেখানে অনুভূতি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘ভেবে রেখেছিলাম, শপথ নেওয়ার পর প্রথমই জুলাইয়ের শহীদ নাইমার বাসায় যাব। যাওয়ার পর আপা এত খুশি হয়েছিলেন, এত খুশি হবেন আমি ভাবিইনি। নাইমা আমার মেয়ের কাছাকাছি বয়সী। আর তার মা প্রায় আমারই সমবয়সী।’
তিনি লেখেন, ‘নাইমার বাসায় যাওয়ার পর শপথের ভারটা যেন নতুন করে আরও ভারী হয়ে উঠল আমার কাছে। মেয়েটা পিজ্জা বানাবে বলে চিকেন নামিয়ে বারান্দায় গিয়েছিল, সেখানেই সে খুন হয়েছে রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে, ৭২ এর সংবিধানের হাতে। যে সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বময় ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করেছে, সেই কাঠামো ব্যবহার করে পুলিশ, প্রশাসন, বিচারব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে নিরস্ত্র শিশুদের বুক-মাথায় গুলি চালানো হয়েছে।’
ফ্যাসিবাদ তৈরির যন্ত্র ৭২ এর সংবিধান দেশে এখনো অটুট রয়েছে জানিয়ে মাহমুদা মিতু বলেন, ‘দেশ সংস্কারের নামে আমরা এখনো সেই সংবিধানের গোলকধাঁধার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছি। আমি শহীদ নাইমার মাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনার কি কোনো চাওয়া আছে? আমি তো সংসদে যাচ্ছি…।’ খুব স্পষ্টভাবে তিনি দুটি কথা বললেন, ‘জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চান এবং দেশের প্রকৃত সংস্কার চান, হাদি হত্যার বিচার চান।’ কারণ তার আরও দুইটি সন্তান আছে।’
তিনি লেখেন, ‘সংস্কার না হলে, যদি আমরা আবার সেই আগের বাংলাদেশে ফিরে যাই তাহলে তার বাকি সন্তানদের কী হবে? সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে আমরা ফিরে যাব সেই একই রাজনীতি, একই সিস্টেম, একই সিন্ডিকেটের কাছে। আপা কাঁদছিলেন। কিন্তু শুধু আবেগ দিয়ে, মায়ের মমতা দিয়ে রাষ্ট্র চলে না। আমাদের রাষ্ট্র চলে ৭২ এর সংবিধান দিয়ে। যে সংবিধান বারান্দায় কাপড় শুকাতে দেওয়া আমার সন্তানকে খুন করে।’
এমপি-মন্ত্রীদের মাসে একবার এসব মায়েদের কাছে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকা উচিত বলে মনে করেন মাহমুদা মিতু। তিনি বলেন, ‘তখন হয়তো মনে পড়বে ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে সেই সবুজ চেয়ারে তারা বসেছে, কেন বসেছে? তাদের প্রধান দায়িত্ব কি?’
অনেক দিন পর জুলাইয়ের সে ভয়াবহ স্মৃতি ভেসে উঠেছে জানিয়ে এনসিপির এ নেত্রী বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ নাইমাকে বারান্দা থেকে ধরে নেওয়ার চেষ্টা করছে কিছু ছাত্ররা। কি তীব্র অমানবিক দৃশ্য।’