‘হাসিনার পতনে পেছন থেকে যারা ভূমিকা রেখেছেন, আমি তাদের একজন’

রাজনীতিতে বিনয়, ইতিবাচক ধারা এবং মানুষের কল্যাণ প্রতিষ্ঠাকে নিজের প্রধান অঙ্গীকার বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর দায়িত্ব পাওয়া তরুণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাশেদ খান। এশিয়া পোস্টকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের রাজনৈতিক দর্শন, নতুন দায়িত্ব এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার প্রতি যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখে এ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব দিয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করেছেন, আমার বক্তব্য শুনেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন। তার এই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করে দেশ ও রাজনীতির কল্যাণে কাজ করাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।
তিনি জানান, এ দায়িত্বের জন্য অনেকেই প্রত্যাশী ছিলেন। তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক মূল্যায়নের পর প্রধানমন্ত্রী তাকে এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন বলে তিনি মনে করেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, রাজনীতির নামে হুমকি-ধামকি, গালিগালাজ, প্রোপাগান্ডা, গুজব ও অসত্য তথ্য প্রচারের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তার অবসান হওয়া প্রয়োজন। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য হওয়া উচিত। দখলদারি, চাঁদাবাজি, অন্যায়-অপরাধ কিংবা পেশিশক্তির মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করার নাম রাজনীতি হতে পারে না।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ‘বিনয়ের রাজনীতি’ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে ধারা শুরু করেছেন, সেটিকে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে তিনি বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—বিশেষ করে ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিক দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
নিজের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, গণঅধিকার পরিষদে থাকার সময় থেকেই ২০২২ সালের যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে তারা জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার সঙ্গেই সম্পৃক্ত ছিলেন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে পেছন থেকে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, আমি তাদের একজন ছিলাম। আমরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় কাজ করেছি। গণঅধিকার পরিষদকে ঘিরে নানা চক্রান্ত হলেও আমরা বিএনপির সঙ্গেই ছিলাম এবং এখনো আছি। আমাদের সংগ্রাম ও ত্যাগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবগত বলেই তিনি আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে রাশেদ খান বলেন, ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে অতীতে কেউ সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করার যেকোনো অপচেষ্টা তরুণ সমাজকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।
সবশেষ তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং দেশের অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করতে সাধারণ জনগণ, রাজনৈতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।
.png)






