logo

ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব: ডা. ইরান

ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব: ডা. ইরান
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ লেবার পার্টি ঢাকা মহানগর আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন দলের চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। ছবি : এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। শেখ মুজিবের একদলীয় বাকশাল শাসন, দুর্নীতি, লুটপাট ও কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সিপাহী, ছাত্র, শ্রমিক ও জনতার সম্মিলিত ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশে দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল। আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবমুক্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই এ বিপ্লবকে ঐতিহাসিক তাৎপর্য দিয়েছে। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর শহীদ আউয়াল-নাঈম মিলনায়তনে বাংলাদেশ লেবার পার্টি ঢাকা মহানগর আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. ইরান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ওপর ভারতীয় আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা ছিল জাতীয় ইতিহাসের একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। ভারত বাংলাদেশের স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। ১৯৭১ সালে ভারতের সহযোগিতার পেছনে পাকিস্তানকে দুর্বল করার ভূরাজনৈতিক স্বার্থও সক্রিয় ছিল। পানি আগ্রাসন, সীমান্ত হত্যা, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য এবং বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ভারতের আগ্রাসী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপির সঙ্গে বর্তমান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির আদর্শিক অবস্থানের পার্থক্য রয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়া ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার রাজনীতিতে ভারত-তোষণনীতি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বাংলাদেশের জনগণ আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।

ঢাকা মহানগর লেবার পার্টির আহ্বায়ক এস এম ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট গবেষক সাদেক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফেরদাউস আলম, মহিলা সম্পাদিকা নাসিমা নাজনীন সরকার, ঢাকা মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ হাসান হাফিজ, লেবার পার্টির আহ্বায়ক সৈয়দ মো. মিলন, যুবমিশনের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সজিব, নারীনেত্রী জুমা চৌধুরী, পল্টন থানা সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রিপন, কামরাঙ্গীরচর থানা যুগ্ম আহ্বায়ক মিসেস সাবলিল ইসলাম স্বপ্না ও সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মো. মিঠুন প্রমুখ।