নতুন দলের নেতারা শেখ হাসিনার অশালীন ভাষাই অনুসরণ করছেন: রিজভী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতিতে যে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ভাষার সংস্কৃতি চালু করেছিলেন, বর্তমানের একটি নতুন দলের নেতারা সেই একই ধারার পুনরাবৃত্তি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ন্যাব) আয়োজিত ‘রক্তঝরা জুলাইয়ে নার্সদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা সবসময়ই অশালীন কথাবার্তা বলতেন এবং রাজনীতিকে একটি জঘন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। অমানবিক অবিচার ও জুলুম সহ্য করার পরও আমরা তার নীতিগত কঠোর সমালোচনা করেছি, কিন্তু কখনও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করিনি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, শেখ হাসিনা যে বাজে রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করে গিয়েছিলেন, আজ একটি নতুন দলের নেতারা সেই পথেই হাঁটছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়ার পর তরুণ সমাজ যেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, ঠিক একইভাবে এখন কেন সেই একই ভাষার ব্যবহার করা হচ্ছে? এভাবে চললে শেখ হাসিনাই সুযোগ নেবে এবং দেশে ফেরার স্বপ্ন দেখবে।
জুলাই আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন না হলে ছাত্র-রাজনীতিবিদ সবাইকে ভয়াবহ পরিণতি ও ফাঁসির মঞ্চে যেতে হতো। আন্দোলনের সময় ২২ জুলাই শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে এবং ওবায়দুল কাদের তাদের বক্তব্যে আন্দোলনটি লন্ডন থেকে এবং বিএনপির ইন্ধনে পরিচালিত হচ্ছে বলে স্বীকার করেছিলেন।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আজ যারা আন্দোলনের একক কৃতিত্ব দাবি করছেন এবং বিএনপির বিরুদ্ধে অরাজনৈতিক ভাষায় কথা বলছেন, তারা কী ভেবে দেখেছেন—আন্দোলন আমাদের না হলে কীভাবে বিএনপির সাড়ে ছয়শ নেতাকর্মী জীবন দিলেন?
তিনি আরও জানান, পুরো আন্দোলনজুড়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে প্রতিদিন দিকনির্দেশনা দিতেন, যা তিনি ভার্চুয়ালি গণমাধ্যমকে অবহিত করতেন।
জুলাই আন্দোলনকে দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক নিপীড়নের যৌথ পরিণতি উল্লেখ করে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, এটি এক দিনের কোনো ঘটনা নয়। নাগরিকদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রাম চেতনাগতভাবে ফরাসি বিপ্লবের সঙ্গেই তুলনীয়।
ন্যাবের বিএমইউ শাখার সভাপতি শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম ও সহস্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক সুজন মিয়া।
.png)

