নতুন করে ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ দল’ মানুষ দেখতে চায় না: মামুনুল হক

বাংলাদেশের মানুষ আর কোনো রাজনৈতিক দলের প্রভাবাধীন প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, অতীতে পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা আর ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না। একইভাবে ‘জাতীয়তাবাদী পুলিশ দল’ও জনগণ দেখতে চায় না।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা থেকে বান্দরবানের লামা বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বান্দরবান দক্ষিণ জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকারি চাকরি, পদায়ন ও পদোন্নতিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিগত সরকারের সময় পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামোর অংশে পরিণত হওয়া কাম্য নয়।
তিনি বলেন, আমরা চাই না আবার নতুন করে সেই সংস্কৃতি ফিরে আসুক। আমরা চাই না জাতীয়তাবাদী দল, জাতীয়তাবাদী যুবদল ও ছাত্রদলের পরে নতুন করে জাতীয়তাবাদী পুলিশ দল হোক। বাংলার মানুষ তা দেখতে চায় না।
বিকেএম আমির বলেন, প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষভাবে গড়ে তুলতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল যাতে রাষ্ট্রের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর চরিত্র পরিবর্তিত হওয়া উচিত নয়। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশাসন জনগণের সেবা করবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে—এটাই প্রত্যাশিত।
সমাবেশে মামুনুল হক সংবিধান সংস্কার, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিও তুলে ধরেন।
বান্দরবান দক্ষিণ জেলা সভাপতি মাওলানা তৈয়ব হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাঈদ নোমান।



