ধর্ষণের শাস্তি এ দেশে নয়, হীরক রাজার দেশে প্রয়োগ হয়: জারা

দেশে একের পর এক ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ঝুম বৃষ্টি উপেক্ষা করে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে তাসনিম জারা বলেন, আমাদের দেশটা বর্তমানে অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা অন্যতম এক বড় সংকট। সাধারণত যখন কোনো মর্মান্তিক বা লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে, কেবল তখনই বিষয়টি সাময়িকভাবে আলোচনায় আসে। কিন্তু নারী ও শিশু নিরাপত্তার মতো এত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি যেভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা ছিল, বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।’
দেশের প্রচলিত আইনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই নারী নেত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আইন আছে যে ধর্ষণের ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই আইন কি বাংলাদেশে আদৌ প্রয়োগ হয়? এ সময় উপহাস করে তাসনিম জারা বলেন, এই বাংলাদেশে প্রয়োগ হয় না এটা তো ‘হীরক রাজার’ দেশে প্রয়োগ হয়। যে আইনের বাস্তব কোনো প্রয়োগ নেই, সেই আইন থাকা আর না থাকা একই কথা।
পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির তাগিদ কেবল আইন প্রণয়ন করলেই অপরাধ দমন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তাসনিম জারা বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতার দিকে আঙুল তোলেন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে তদন্ত শেষ করার মতো পুলিশের সেই প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও লজিস্টিক সাপোর্ট আছে কি না, সেটা আগে রাষ্ট্রকে দেখতে হবে।
পুলিশের সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ না করে শুধু আইন দিয়ে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেও সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে নজর দিতে হবে।