logo

বিএনপির নির্দেশে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি

বিএনপির নির্দেশে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে ছাত্রদল: শিবির সভাপতি

রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা ও নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে বিএনপির নির্দেশে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে শিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকট, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো ঘটনা এবং বিএনপির লুটপাট-অপকর্ম ঢাকতে তাদের নির্দেশে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে অস্থিরতা ছড়াচ্ছে। মানুষকে জ্বালানি তেলের জন্য লম্বা লাইন দিতে হচ্ছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন এখন বিপর্যস্ত; মানুষ এসব থেকে নিস্তার চায়।

নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, মানুষ এখন ফুঁসে উঠছে, যে কোনো সময় রাস্তায় নেমে যেতে পারে। আরেকটা বড় ধরনের বিদ্রোহের তৈরি হতে পারে। তাই বিএনপি পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ক্যাম্পাসগুলো উত্তপ্ত করতে। এই বিদ্রোহ যাতে না হয়, তাই মিডিয়ার দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে। ক্যাম্পাসগুলোতে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ- এই নিউজগুলো মিডিয়াতে আসবে, আর তারা যে অপরাধগুলো করছে, সিন্ডিকেট বাণিজ্য করছে, ব্যাংকগুলো দখল করে রাখছে, একের পর এক গণবিরোধী আইন করছে তা মানুষের নজরে না আসে।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্যাম্পাসগুলোতে তাদের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিএনপির পদধারী লোকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য করা হচ্ছে, প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। 

বিএনপির নির্দেশে ছাত্রদল ক্যাম্পাস দখল নেওয়ার জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি করছে অভিযোগ করে সাদ্দাম বলেন, ঢাকার তেজগাঁও কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ, কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক কলেজ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্পাসে হামলার ঘটনা ঘটছে। গণরুম-গেস্টরুম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে শিবির সভাপতি বলেন, কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসে টানানো শিবিরের ব্যানার-ফেস্টুন ছিড়ে ছেলছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। জুলাইকে নিয়ে, শহীদ ওসমান হাদিকে নিয়ে আকা গ্রাফিতি মুছে ফেলে আপত্তিকর শব্দ লেখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগ জানিয়ে আসার সময় সেখানে ছাত্রদলের লোকজনের সঙ্গে তর্ক হয়। এ সময় শিক্ষকরা এসে শিবিরের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেন। এ সময়ও ছাত্রদল হামলা করে, ঠেকাতে যাওয়া শিক্ষকদেরও আহত করা হয়েছে।

বিকেলে এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মিছিল করা হয়, সেখানে ভাড়া করা সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা করা হয়। এ হামলায় বেশ কয়েকজন শিবির কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় হামলার বেশ কয়েকটি ছবি দেখিয়ে জড়িতরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে চিহ্নিত করেন শিবির সভাপতি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

জুলাইকে মুছে দেওয়ার জন্য এসব করা হচ্ছে অভিযোগ করে সাদ্দাম বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী ক্যাম্পাসে সব দলের সহাবস্থানের দাবি ছিল, কিন্তু সেটা নষ্ট করছে ছাত্রদল। ছাত্রদল জুলাইকে ধারণ করে না।

ছাত্রদল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন করছে বলেও অভিযোগ করেন শিবির সভাপতি। তিনি বলেন, ছাত্রদল একের পর এক কমিটি দিচ্ছে আর ছাত্রলীগকে পুনর্বাসন করছে। ছাত্রদলের কমিটিগুলোতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের স্থান দেওয়া হচ্ছে। ছাত্রলীগ যারা করত, তারা তো এখন ছাত্রদল করছে। ছাত্রদলের ভেতরে যারা গুপ্ত ছাত্রলীগ ছিল, তারা ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে এগুলো (অস্থিরতা) করছে।

সাদ্দাম বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তাদের নেতাকর্মীরা ৩১ জনকে হত্যা করেছে, কিন্তু এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখল এগুলো নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। এগুলোর প্রতিকার চাইতে গেলে মামলা নেওয়া হচ্ছে না, হুমকি দেওয়া হচ্ছে।  

আওয়ামী লীগকে বিএনপি পুনর্বাসন করছে দাবি করে সাদ্দাম বলেন, দুই মাসের কার্যক্রমেই বোঝা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করেই বিভিন্ন কায়দায় বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। গত দুই মাসে আওয়ামী লীগের বিচারের কোনো অগ্রগতি নাই। এখন বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেত্রীদের। বিএনপিকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রিলীগের ‘প্রো-ম্যাক্স ভার্সন’ বলে মন্তব্য করেন শিবির সভাপতি।