logo

বিএনপি জিতলে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করবে না

বিএনপি জিতলে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করবে না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার দল এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে, এ বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।

নিজের দলীয় কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানো, জেন-জিদের ভোট ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীকে আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ধরা হচ্ছে। দলটি আগে নিষিদ্ধ থাকলেও এখন আবার রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত চার দলীয় জোট সরকার পরিচালনা করেছিল। এদিকে জামায়াতও জানিয়েছে, তারা দেশকে স্থিতিশীল করতে একটি ঐক্য সরকার গঠনের মাধ্যমে আবারও অংশীদারত্বে আগ্রহী।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের সুরক্ষায় রয়েছেন।

রয়টার্স লিখেছে, দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আবারও ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহী জামায়াত।

রয়টার্সকে পাল্টা প্রশ্ন করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলই বা কে হবে?’

‘আমি জানি না তারা কত আসন পাবে। তবে যদি তারা বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করছি তাদের একটি ভালো বিরোধী দল হিসেবে পাব’, বলেন তিনি।

বিএনপি নেতাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভে আত্মবিশ্বাসী। দলটি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, আর বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্ররা প্রার্থী দিয়েছে।

যদিও তারেক রহমান নির্দিষ্ট সংখ্যা না জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য আমরা যথেষ্ট আসন পাব।’

এদিকে শুক্রবার যে নির্বাচনি ইশতেহার বিএনপি ঘোষণা করেছে, সেখানে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে’ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ‘জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ সরকার গঠন করবে বিএনপি।

তবে বিএনপি সরকারে যে জামায়াতকে চায় না, সেটা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগেই বলেছিলেন।

গত সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকে প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন আমরা ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করি, তখন স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, সরকার গঠন করতে পারলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের পাশে থাকা দলগুলোর অংশগ্রহণে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার হবে। সেই অঙ্গীকার এখনো বহাল আছে। তবে যারা সেই সংগ্রামের অংশ ছিল না, তারা এই সরকারের অংশ হবে না।’

জামায়াতে ইসলামী সেই সরকারে জায়গা পাবে কি না, এমনটা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘না। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আমাদের কোনো সমঝোতা নেই এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন কোনো জাতীয় সরকারের অংশ হিসেবে জামায়াতকে আমি দেখি না।’

বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি কী হবে

রয়টার্স বলছে, আন্দোলন দমাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরও তাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের তিক্ততা বেড়েছে। তাতে করে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিএনপি জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না, এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম এমন অংশীদারদের বাংলাদেশের প্রয়োজন।

দলের প্রধান বলেন, ‘‌‌আমরা সরকারে গেলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। দেশে ব্যবসা আনতে হবে, যাতে চাকরি তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবন পায়।’

‘বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে বা যারা উপযুক্ত প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে, কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়’, বলেন তিনি।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শেখ হাসিনার সন্তানরা বিদেশ থেকে দেশে ফিরে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নে তারেক বলেন, ‘যদি জনগণ কাউকে গ্রহণ করে, মানুষ যদি তাদের স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।’