logo

২০ বছর পর সরকার গঠনের পথে বিএনপি

২০ বছর পর সরকার গঠনের পথে বিএনপি

দীর্ঘ ২০ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে সরকার গঠনের জন্য দেড় শতাধিক আসনে জয় পেয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ১১টি আসনে জয় পেয়েছেন। বাকি ৪২টি আসনের ফলাফল এখনো প্রক্রিয়াধীন।

শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ঢাকা ১৭ ও বগুড়া ৬ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা ১৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এবারই প্রথমবারের মতো সংসদে প্রধান বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলের পর থেকে কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হয় এবং রাত পর্যন্ত আসতে থাকা বেসরকারি ফলাফলে এসব চিত্র দেখা গেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে অন্তত ১৫০টি আসন লাভ করতে হয়।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি। অভাবনীয় কোনো পরিবর্তন না হলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হতে যাচ্ছেন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী।

সর্বশেষ ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (প্রয়াত) রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্র প্রদানের মাধ্যমে সেই মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে।

এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গড়া এই দলটিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যান। দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া ১৯৯৬ সালেও স্বল্প সময়ের জন্য সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। সেই সরকারেরও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া।

বিগত ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে গত বছরের ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান এবং ২৭ নভেম্বর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।

বিএনপির ওয়েবসাইট ও মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ১৯৯৩ সালে বগুড়ায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করে তিনি তৃণমূল রাজনীতিতে সাড়া ফেলেন। 

২০০২ সালে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। এরপর ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটি তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর বিশেষ প্রেক্ষাপটে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলো। ইতিহাসে এই প্রথম সংসদ ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় ভোটারদের বিশেষ আগ্রহ ছিল। নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পাঁচ শতাধিক বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিশ্রুতি ছিল ইতিহাসের একটি শ্রেষ্ঠ নির্বাচন আয়োজন করা। বৃহস্পতিবারের ভোটে তার এ আকাক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন।