logo

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিলেন রিফাত, তদন্তের আহ্বান

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাখ্যা দিলেন রিফাত, তদন্তের আহ্বান

গণভোটের প্রচারের জন্য পাওয়া অর্থের তথ্য গোপন করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ। একইসঙ্গে দুদকসহ যেকোনো তদন্ত সংস্থাকে কথিত অর্থ তছরুফের অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

শুক্রবার রাতে গণমাধ্যমকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, আপনারা ইতোমধ্যে অবগত আছেন যে, বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য সাবেক মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা আমাদের বিরুদ্ধে গণভোটের অর্থ তছরুপের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনেছেন। কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ব্যতীত এহেন অভিযোগ সুস্পষ্ট অপরাধ। তবুও, আমরা আপনাদের সামনে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করছি।

গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইনের জন্য আমাদের ফান্ডের প্রয়োজন ছিল। সেই ফান্ড সংগ্রহের জন্য আমরা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সবশেষে, বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের ফান্ড দিতে সম্মত হয়। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে, কারণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সরকারের কোনো রেজিস্টার্ড সংগঠন নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নন-রেজিস্টার্ড কোনো সংগঠনকে অনুদান বা স্পনসর করতে পারে না। সে কারণে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে একটি ফাউন্ডেশন গঠন করতে হয়। সেই ফাউন্ডেশনে সিনথিয়াও যুক্ত ছিলেন। 

সিনথিয়া শুরুতে থাকতে সম্মত হন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানসহ স্বাক্ষরও করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি গণভোটের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন না এবং দায়িত্ব নিতে পারবেন না বলে হঠাৎ সরে দাঁড়ান। পাশাপাশি তিনি বলেন, তাকে যদি ফাউন্ডেশনে রাখা হয়, তাহলে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত করবেন। পরবর্তীতে তাকে বাদ দিয়েই ফাউন্ডেশনের রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে গণভোটের ক্যাম্পেইনকে সামনে রেখে আমাদের ১৫ দিনব্যাপী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে ৫ কোটি টাকা প্রদানের বিষয়ে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। তবে ভোটের আগে সময়স্বল্পতার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজিস্টারকৃত সেড ফাউন্ডেশনকে ৭ দিনের প্রচারণার জন্য ১ কোটি টাকা প্রদান করে। এরপর আপনারা জানেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সারাদেশব্যাপী ৭ দিন গণভোটের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।

গণভোটের প্রচারণার সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত একটি অডিট ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করা হয়। এবং সেই অডিট রিপোর্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের বিতর্কিত ও হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে।

আমরা এসব মিথ্যা অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। একই সঙ্গে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, দুদকসহ যদি কোনো তদন্ত সংস্থা উক্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করতে আগ্রহী হয়, তাহলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের কাছে সংশ্লিষ্ট হিসাবের সকল প্রকার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।

ইতোপূর্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চার মাসের একটি ট্রানজিশনাল সংকট অতিক্রম করেছে। কারণ সে সময়ে সংগঠনের পূর্ববর্তী অর্গানোগ্রাম উমামা, হাসনাত, আরিফ সোহেল সংগঠনের পরবর্তী কোনো কার্যপরিধি ও নেতৃত্ব নির্ধারণ না করায় একধরনের সংকট তৈরি। ফলত, নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা কর্মীরা হয়রানির শিকার ও আত্মপরিচয় সংকটে ভোগে। তৎকালীন সময়ের এই সাংগঠনিক সংকট মোকাবিলায় সাবেক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় এবং নতুন কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে, উক্ত কমিটির সাধারণ সভায় ট্রানজিশনাল সময়ের নেতৃত্ব নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশাকে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন কমিটির দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তবে তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন।

ফলস্বরূপ, চলমান ট্রানজিশনাল সময়ে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন এবং ভবিষ্যৎ কার্যপরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিক্রমে বর্তমান উপদেষ্টা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। উক্ত উপদেষ্টা পর্ষদ অতি দ্রুত সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।