সরকারের পাশে দাঁড়াতে হবে, ধৈর্য ধরতে হবে: শামসুজ্জামান দুদু

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি চ্যালেঞ্জের মুখে দায়িত্ব নিয়েছেন। অতীতে যেমন বেগম খালেদা জিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পাশে সবাইকে দাঁড়াতে হবে এবং ধৈর্য ধরতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর জামান টাওয়ারে জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া এবং ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে দুদু বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ যে নেতৃত্ব পেয়েছে, তা জনগণের প্রত্যাশার ফল। ১৮ বছর আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। গুম, নির্যাতন, মামলা-হামলা—এমন কোনো ঘটনা নেই, যার মুখোমুখি দেশবাসী হয়নি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ জানে না। আন্তর্জাতিক সংকটে বাংলাদেশের মতো দেশ অর্থনৈতিকভাবে আক্রান্ত হতে পারে।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, আন্দোলনের সময় জনগণ বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছিল। দলের পক্ষ থেকে ৩১ দফা ও কৃষক-শ্রমিকের নানা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীও তার প্রতিশ্রুতির বিষয়ে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার গঠনের ১৫ দিনের মধ্যেই নানা আপত্তিকর বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, ধৈর্য সহকারে এসব গ্রহণ করা কঠিন হলেও এটাই এখন পরীক্ষার সময়।
সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, এই সরকার শুধু বিএনপির সরকার নয়; এটি জনতার সরকার। আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলও ছিল। তাই সবারই সরকারের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
ব্যাংক খাতের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগে ব্যাংকগুলো ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো বিশ্বপরিচিত ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর প্রত্যাশা ছিল, তবে সে ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা যায়নি।
দুদু বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিন হয়েছে, গভর্নরও সাত দিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। দাবি জানানো মানুষের অধিকার আছে, তবে ধৈর্য ধরতে হবে। না হলে সরকার বিপদে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, অতীতে যেমন রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, তেমনি সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্যও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বাংলাদেশ ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকনসহ প্রমুখ।