logo

অতীতের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

অতীতের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতির উদ্দেশে ভাষণে অতীতের ভুল-ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দেশবাসীর কাছে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের প্রাক্কালে দেওয়া ৩৭ মিনিটের এই ভাষণে তিনি দেশ পরিচালনায় বিএনপির পরিকল্পনা, সুশাসন, দুর্নীতি দমন, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

ভাষণে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে দেশে ফিরে স্বল্প সময়ের মধ্যে যতটা সম্ভব তিনি দেশবাসীর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন এবং মানুষের ভালোবাসা ও আবেগ অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির প্রতি আবারও আপনাদের ভালোবাসা প্রকাশের দিন।

অতীতের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। তবে দেশ পরিচালনার সময় অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে—এ কথা স্বীকার করে তিনি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্জনগুলোকে ভিত্তি করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে আবারও ধানের শীষে ভোট চান তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে নেওয়া প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সমর্থন অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিতা ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে এবং আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে বলে অঙ্গীকার করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, তখন তিনি জনগণকে পরিবারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া তরুণদের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হওয়া উচিত মনে করেন তারেক রহমান।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা ধানের শীষের প্রার্থীদের দায়িত্ব নেবেন এবং নির্বাচনের পর জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচিত এমপিরা তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও তিনি নিজে নেবেন বলে জানান।

ধর্মীয় সম্প্রীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম ও মতের মানুষ নিরাপদে বসবাস করবে। তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে বিশ্বাসী বিএনপি ধর্মীয় চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

ভাষণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ধানের শীষের বিজয় মানেই বাংলাদেশের বিজয়। ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও তাঁবেদারমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, অতীতে প্রশাসন দলীয়করণের শিকার হয়েছে। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাংবিধানিক নিয়মে পরিচালিত হবে এবং প্রশাসনে পদোন্নতি হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।

ভাষণে বিএনপির ইশতেহারে ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, বেকার ভাতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রবাসী কার্ড, প্রবাসীদের জন্য ঋণ সুবিধা এবং সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপনের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তারেক রহমান।

শেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র ও সরকারের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন। যারা স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ভালোবাসেন—তাদের সবাইকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান তিনি।