সরকারকে বাগে নিতে বার বার হাসিনা কার্ড খেলছে ভারত: আবু হানিফ

জুলাই গণহত্যায় জড়িত ফ্যাসিস্টদের আস্ফালন ও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ‘জাগ্রত জুলাই ফোরাম’।
শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শুধু আওয়ামী লীগের পতন হয়নি, সেই সঙ্গে ভারতীয় আগ্রাসনেরও পতন হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত করে আসছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তারা স্বৈরাচার হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচার করছে। সরকারকে বাগে নিতে বারবার হাসিনা কার্ড খেলছে ভারত।
তিনি বলেন, চীন সফর, বিমসটেক সম্মেলন এবং সর্বশেষ জাতিসংঘের অধিবেশনের সময়কে লক্ষ্য করে খুনি হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিষয়গুলোকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই; ভারতীয় ষড়যন্তের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনুন।
তিনি আরও বলেন, গতকাল ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসিকে আটক করে রিমান্ডে নেওয়ায় সরকার কে ধন্যবাদ জানাই। ওই ওসি ফোনে বলেছিল খুনি হাসিনার নাকি দ্রুত দেশে ফেরা উচিত। এর আগে আমরা দেখেছি, গুলশান জোনের ডিসি নিষিদ্ধ লীগকে মিছিল করার জন্য ছাড়পত্র (ক্লিয়ারেন্স) দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের এই গুপ্তচরদের কারা অর্থের বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন করেছে, তা সরকারের তদন্ত করে বের করা উচিত। ওসি রাকিবুলের মতো প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী দোসরদের বিচারের আওতায় আনলে তারা আর মিছিল করার সুযোগ পাবে না।
আবু হানিফ আরও বলেন, সম্প্রতি আমরা লক্ষ্য করেছি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে অনেককেই বাদ দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে চৌদ্দ গোষ্ঠীর রক্তের সম্পর্ক পরীক্ষা করে দেখা হতো তারা আওয়ামী লীগ কি না; তা নিশ্চিত হয়েই চাকরি দেওয়া হতো। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, এখন চাকরি পাওয়ার একমাত্র যোগ্যতা হবে মেধা। শুধু রাজনৈতিক কারণে ভেরিফিকেশনের নামে কোনো মেধাবীকে যেন বাদ দেওয়া না হয়—এটাই আমাদের দাবি।
জাগ্রত জুলাই ফোরাম-এর আহ্বায়ক আলহাজ জীবন আহমেদের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব ওয়ালিউল হাসান রাজুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ফোরামের উপদেষ্টা মাহমুদুল্লাহ মধু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌফিক শাহরিয়ার, গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর অপূর্ব, ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম রাকিব, জাবের মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ত্বোহা, বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধা সংসদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মাহমুদ এবং জুলাই শহীদ আবদুর রহমান জিসানের বাবা ও আহত জুলাইযোদ্ধারা।
