logo

হামিদুর রহমান আযাদ/পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে

পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে
১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে বক্তব্য দিচ্ছেন হামিদুর রহমান আযাদ। শুক্রবার রাজধানীর মিন্টো রোডে। ছবি: জামায়াতের মিডিয়া সেল

পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে মেধা হত্যা করা হয়েছে। একই পথে হাঁটছে বর্তমান নব্য ফ্যাসিবাদ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি, লংমার্চ করছি।

দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অবিলম্বে দুর্নীতির পথগুলো বন্ধ করা উচিত। এজন্য দুর্নীতি দমন কমিশনসহ মানবাধিকার কমিশন, গুম, খুন রোধ করার জন্য আমরা স্বাধীন কমিশন করার কথা বলেছি।

প্রশাসনের সর্বত্র নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পিএসসির সদস্যদের চায়ের দাওয়াত দিয়ে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে। আমাদের সন্তানরা মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য, বৈষম্য নির্মূলের জন্য আন্দোলনে নেমেছিল। কোটা আন্দোলন ও জুলাই আন্দোলন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মেধা হত্যা করা হয়েছে অতীতের ফ্যাসিবাদী আমলে। একই পথে হাঁটছে বর্তমান নব্য ফ্যাসিবাদ। সেজন্য মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও পদোন্নতি হচ্ছে না, হচ্ছে দলীয় বিবেচনায়।

তার মতে, নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় একজন দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এটি নির্লজ্জ দলীয়করণের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো শামসুল আলমের নিয়োগ।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দলের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির মতো ইঞ্জিনিয়ারিং করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। যদি এ ধরনের কিছু হয়, তাহলে মাগুরা থেকে শিক্ষা নিতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। মাগুরার নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায়। এখান থেকে সরকার পতনের আন্দোলন হয়েছিল, চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে আমরা তো জোর করে ক্ষমতায় রাখতে পারব না। তাদের প্রতিটি আচরণ মনে হচ্ছে, ছেড়ে দে মা, কেঁদে বাঁচি। অজুহাত তৈরি করে পালিয়ে যায়। এরকম পরিস্থিতি তৈরি করে দিলে জনগণের কিছু বলার নেই। মাগুরার পুনরাবৃত্তি ঘটুক আমরা চাই না। সেজন্য মাগুরা মার্কা নির্বাচন করার অশুভ পরিকল্পনা থাকলে তা থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

আগামী ৩১ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণমূলক লংমার্চ হবে জানিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার যেন অনতিবিলম্বে জনগণের ভাষা বুঝতে পারে। দেশের আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত যারা রয়েছেন সবার প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, প্রতিটি জনগণের নিরাপত্তা দেবেন। কারণ এ দায়িত্ব হলো সরকার ও প্রশাসনের।

তিনি জানান, ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এ ছাড়া ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন। এদিন প্রায় ১ হাজার গাড়ির এক বিশাল বহর নিয়ে লংমার্চ সকাল ৮টায় মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট (বাগেরহাট), রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা যাবে। পরবর্তীতে যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর।

শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় সকাল ৯টায়; বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে সকাল ১১টায়; খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে বেলা সাড়ে ১২টায়, ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে দুপুর ২টায়; যশোরের মুড়লীর মোড়ে বিকেল সাড়ে ৩টায়; ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালে বিকেল ৫টায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ৮টায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।

লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী; নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

রায়হান রাশেদ

সম্পাদনা

রায়হান রাশেদ

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট