স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করার জন্যই প্রশাসক নিয়োগ

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করার জন্য বর্তমান সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, নির্বাচন দেওয়ার সদিচ্ছা থাকলে প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজন ছিল না। প্রশাসক দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করার জন্য।
সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের আয়োজন আলাপন-এ তিনি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব মন্তব্য করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপি সরকার যেভাবে তড়িঘড়ি করে প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে, তাতে আদতে নির্বাচন দেওয়ার সদিচ্ছা আছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আমরা দেখছি প্রশাসকরা মেয়রের চেয়ারে বসে নিজেদের পোস্টার লাগিয়ে ভোট চাচ্ছেন, যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী এবং লেভেল প্লেইং ফিল্ড নষ্ট করছে। এই ধরণের কর্মকাণ্ড সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে শুরুতেই বাধাগ্রস্ত করছে।
এনসিপি মুখপাত্র বলেন, একসময় বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করলেও এখন তারা ভিন্ন পথে হাঁটছে। তারা নিজেদের প্রার্থীদের প্রশাসক বানিয়ে নির্বাচন ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছে। তারা আসলে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে নিজেদের কিংস পার্টি পরিচয়কেই পুনরুজ্জীবিত করছে।
সাক্ষাৎকারে আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন যে, তিনি নিজে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে থাকার সুবাদে ঢাকার সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
তিনি মনে করেন, প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের হাতে রাখা হচ্ছে, যা সংস্কারের পথে বড় বাধা।
তিনি বলেন, প্রশাসক নিয়োগের ফলে মনে হচ্ছে আমরা আবার সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার দিকেই ফিরে যাচ্ছি।
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও এনসিপি তাদের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ।
তিনি বলেন, তারা ইতোমধ্যে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন এবং বাকি সাতটিতেও প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রশাসক নয়, বরং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমেই স্থানীয় সরকার পরিচালনার গুরুত্বারোপ করেন তিনি।