স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির কাছে জামায়াতের ৯ দাবি

চলতি বছরের নভেম্বরে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ৯ দফা দাবি ও পরামর্শ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ছয় সদস্যের জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত প্রতিনিধি দলের বৈঠক অুনষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য করার লক্ষ্যে তারা ৯টি দাবি উত্থাপন করেন। বেশ কয়েকটি বিষয়ে কমিশনের অসহায়ত্ব পরিলক্ষিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচন কমিশন কোনো বিশেষ দলীয় সরকারের চাপের মুখে কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্ন তোলেন।
দাবিগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
সেক্রেটারি জেনারেল জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শিক্ষকরা প্রতিটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া ছাড়াও রাজনীতি ও ভোটাধিকার প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এমনকি সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা অংশ নিয়েছেন। এ অবস্থায় কেবল স্থানীয় নির্বাচনে শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকদের সমানাধিকারের নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং একটি সুস্পষ্ট বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।
দলটির দ্বিতীয় দাবি হলো, যেসব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি ও যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, সেই দলের পদ-পদধারী নেতারা যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারেন। নিষিদ্ধ কোনো দলের পদধারী নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাও একধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়ে এবং এটি জনগণের ধারণারও পরিপন্থি। তবে সাধারণ সমর্থকদের বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধের কথা তারা উল্লেখ করেননি।
ইসি সচিবালয়ে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও তীব্র আপত্তি জানায় জামায়াতে ইসলামী। গোলাম পরওয়ার জানান, ওই কর্মকর্তা সরাসরি বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক সাব-কমিটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যা সম্পূর্ণ সংবিধান ও নিরপেক্ষ নির্বাচনি ব্যবস্থার খেলাফ।
গত বৈঠকেও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল উল্লেখ করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, কমিশন তাদের এই উদ্বেগের সত্যতা স্বীকার করলেও নিজেদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ না হওয়ার অজুহা দিয়ে বিষয়টি সরকারকে জানানো হবে বলেছে। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ দ্রুত বাতিলের দাবি জানান তারা।
উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষগুলোতে সম্প্রতি দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াত বলছে, সরকারি অর্থ, এডিপি বরাদ্দ ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহার করে আসন্ন নির্বাচনে দলীয় সুবিধা হাসিলের পথ তৈরি করতেই তাদের এই পদে বসানো হয়েছে। তাই নির্বাচনে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এসব পদে নিয়োজিত প্রশাসকদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ স্থায়ীভাবে রদ করার দাবি জানানো হয়।
স্পষ্ট করে দলটি জানিয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এসব পদ থেকে পদত্যাগ করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন এই নির্বাচনে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হন, সেই নিয়ম বলবৎ করতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিদের যেকোনো ধরনের প্রচারণা বন্ধে কঠোর আচরণবিধি প্রণয়নেরও দাবি জানায় জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার জানান, ইসি কিছু বিষয়ে একমত হলেও মূল জায়গায় তারা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। তবে তারা আশাবাদী যে জনদাবি ও সিভিল সোসাইটির পর্যালোচনার মুখে কমিশন এসব মেনে নিতে বাধ্য হবে।
স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে সেক্রেটারি জেনারেল স্পষ্ট করে বলেন, স্থানীয় নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না, তাই দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে না; বরং স্বতন্ত্র ভিত্তিতে যার যার জায়গা থেকে আগ্রহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
জাতীয় নির্বাচনের জন্য গঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের কথা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, সেই ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনের জন্যই সীমাবদ্ধ, স্থানীয় নির্বাচনে দলগতভাবে যার যার মতো অংশগ্রহণে কোনো বাধা বা সমঝোতার শর্ত থাকছে না।




