হিমঘরে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ, ভোলায় দাফন মঙ্গলবার

প্রথম জানাজা শেষে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও আওয়ামী লীগের প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদের মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার তার কফিন নেওয়া হবে জন্মস্থান ভোলায়।
সোমবার (১ জুন) মাগরিব নামাজের পর রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে সেখানেই থাকবে মরদেহ।
জেলার দক্ষিণ গঙ্গাপুর এলাকার কোরালিয়া গ্রামে মায়ের কবরের পাশেই শায়িত হবেন তোফায়েল আহমেদ। এর আগে ভোলা জেলা সরকারি হাই স্কুল মাঠে আবার তার জানাজা হবে।
এ দিন সন্ধ্যায় তাকওয়া মসজিদে তার জানাজায় অশং নেন রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বিভিণ্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এই সময় চারপাশ ঘিরে থাকা নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশের বাধার মুখে স্লোগান চলতে থাকলে সেখান থেকে সাতজনকে আটক করে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।
এর আগে বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক তোফায়েল আহমেদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তিনি দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদ নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তোফায়েল আহমেদের জন্ম ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ২২ অক্টোবর ভোলা জেলায়। ১৯৬০ সালে ভোলা সরকারি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি করেন।
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ডাকসু ভিপি হিসেবে ব্যাপক অবদান রাখেন তোফায়েল আহমেদ। আন্দোলনের ফলে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামিদের মুক্তি দেয় পাকিস্তান সরকার। ঐ বছরেরই ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবের সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভার আয়োজন করে। লাখো জনতার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তোফায়েল আহমেদ উপাধি দেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে তিনি মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।
তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তোফায়েল আহমেদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ৯ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
তোফায়েল আহমেদ ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির একমাত্র মেয়ে তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নী একজন চিকিৎসক। জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামানও একজন চিকিৎসক।
