logo
Advertisement

গুলশানে আ.লীগ নেতাকর্মীদের মিছিল, প্রশ্ন ছুড়লেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
গুলশানে আ.লীগ নেতাকর্মীদের মিছিল, প্রশ্ন ছুড়লেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক থেকে নেওয়া

রাজধানীর গুলশানে ঝটিকা মিছিল করেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বেশ কিছু প্রশ্ন ছুড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত পোস্ট দিয়েছেন তিনি। তার পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

আজ দেখলাম গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল। প্রশ্নটা শুধু একটি মিছিলের নয়, প্রশ্নটা রাষ্ট্রের সক্ষমতার। যদি প্রধানমন্ত্রীর নিজের আসনের ভেতরে, তার বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে মিছিল করার সাহস পায়, তাহলে দেশের বাকি জায়গার পরিস্থিতি কী?

যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন, নির্যাতন, বিরোধী মত দমন এবং দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, সেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আজ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে সংগঠিত হওয়ার সাহস পাচ্ছে কোথা থেকে? সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগ কোথায়? বিচারই বা কতদূর?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দীর্ঘ সময় আপনি দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন ছিল যে আপনি দেশে ফিরতে পারেননি। বিদেশে বসেই নিজের দলের নেতাকর্মীদের সাহস দিয়েছেন, সংগঠিত রেখেছেন। আজ আপনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। অথচ আপনার নিজের আসনেই যদি আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে মিছিল করার সাহস পায়, তাহলে মানুষ প্রশ্ন করবেই, ক্ষমতার পরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগ এতটা সাহস পাচ্ছে কীভাবে?

আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের কাছে প্রশ্ন আরও পরিষ্কার। সংসদে সংবিধান আর আইনের কথা আমরা অনেক শুনছি। তাহলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের এই প্রকাশ্য মিছিল কোন আইনের অধীনে হচ্ছে? যারা এই কর্মসূচি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে? নাকি আগামী দিনে আমাদের এটাও শুনতে হবে যে সংবিধান অনুযায়ী এই মিছিলও বৈধ এবং জায়েজ?

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এত অভিযোগের বিচার কোথায়? তাদের নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কঠোরতা কোথায়? দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ কোথায়?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর নিজের আসনে এবং তার বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় যদি আওয়ামী লীগ এই সাহস দেখাতে পারে, তাহলে এই সাহস তাদের দিল কে?