logo
Advertisement

এখন তো শেখ হাসিনার আমল না, এখন গণতান্ত্রিক আমল: রিজভী

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এখন তো শেখ হাসিনার আমল না, এখন গণতান্ত্রিক আমল: রিজভী
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এখন তো শেখ হাসিনার আমল না, এখন তো গণতান্ত্রিক আমল। বিরোধী দল তাদের কর্মসূচি করবে, কথা বলবে এবং সরকার তার দায়িত্ব পালন করছে।

Advertisement

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কের বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারসংলগ্ন এলাকায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বিরোধী দল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এবং তারা তা করতে পারে। এটি একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের প্রতিফলন, যেখানে বিরোধী দল কথা বলবে ও কর্মসূচি পালন করবে এবং সরকার তার নিজস্ব দায়িত্ব পালন করবে।

দেশে সাম্প্রতিক গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে রিজভী জানান, মহেশখালীর গ্যাস টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, যা ইতিমধ্যে মেরামত করা হয়েছে। সেখানে গ্যাস পুনর্ভরণ সম্পন্ন হলে আগামী এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসে সচল সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং বাসাবাড়ির রান্নাঘর থেকে শুরু করে কলকারখানার সংকট নিরসন হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, সংকট দ্রুত নিরসনে বাজেটের ওপর এলএনজি ও জ্বালানি কেনার জন্য সরকার আরও ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি সরকারের কোনো ত্রুটির কারণে নয়, বরং আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে এ সংকট তৈরি হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে অধিকাংশ জ্বালানিবাহী জাহাজ চলাচল করে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, যুদ্ধের কারণে সেই পথ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার বসে নেই; বরং বিকল্প হিসেবে পূর্বের দেশসমূহ—মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং বার্মাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে দ্রুত জ্বালানি আমদানির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গঠনমূলক রাজনীতি ও সরকারের জনপ্রিয়তা

বিরোধী দলের ভূমিকার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, বিরোধী দল যদি গঠনমূলক হয়, তবে তাদের বস্তুনিষ্ঠ কথা বলতে হবে। সরকারকে বিপাকে ফেলা বা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা অনুচিত।

সরকার জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, জনস্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণেই প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিপদ গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। এ কারণেই আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি স্মরণ করে দেন যে, নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি, নির্বাচনি ইশতেহার এবং এর আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০-এ জলবায়ুর বিপদ মোকাবিলায় বিস্তারিত রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি জলাভূমি পুনঃখনন এবং নদী-নালা ও খাল-বিল দূষণমুক্ত করার ওপরও তিনি জোর দেন।

কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একজন শিশু একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বাড়ির আঙিনায় গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রথম ছয় মাসে আড়াই কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যের বিপরীতে ইতিমধ্যে তিন কোটি বৃক্ষ সশরীরে রোপণ করা হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি এখন দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে চলছে।

বৃক্ষের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে তিনি একটি চমৎকার রূপক ব্যবহার করে বলেন, বৃক্ষ হচ্ছে পৃথিবীর প্রকৃতির ড্রয়িং রুম। মানুষ যেমন নিজের ড্রয়িং রুম সুন্দর করে সাজায়, তেমনি বৃক্ষ দিয়ে পৃথিবীকে সাজাতে হয়। তিনি পরিবেশবান্ধব নিম এবং সৌন্দর্যবর্ধনকারী কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামানসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।