বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে ইসহাক সরকারের ছোট ভাই

ষাট নেতাকর্মীসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বংশাল থানা বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ইয়াকুব সরকার। তিনি যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারের ছোট ভাই।
মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানী কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দাওয়াতি সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বংশাল থানা শাখার যুগ্ম আহ্বায়কের পদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে ইয়াকুব সরকারকে বহিষ্কার করা হয়। এ বহিষ্কারাদেশের অনুমোদন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
এ-সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে) সাইদুর রহমান মিন্টু জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে বংশাল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব সরকারকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং দলীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে অবগত থাকার পাশাপাশি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন ইসহাক সরকার। একইদিন সোশ্যাল অ্যাকটিভিস্ট মহিউদ্দিন রনি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি এবং শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল ফ্লোরাও এনসিপিতে যোগ দেন।
ইসহাক সরকার দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ছাত্রদল ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি একাধিক মামলার আসামি হন, যার সংখ্যা তিন শতাধিক বলে জানা যায়।
পরে বিভিন্ন মামলায় তিনি আদালত থেকে খালাস পান। সবশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করে বিএনপি।


