logo

ইনসাফের ভিত্তিতে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করতে হবে: চরমোনাই পীর

ইনসাফের ভিত্তিতে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করতে হবে: চরমোনাই পীর
গাজীপুর ওলামা সামিটে বক্তব্য দিচ্ছেন সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। রোববার গাজীপুর চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে। ছবি: মিডিয়া সেল

ইনসাফের ভিত্তিতে শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

রোববার (৮ নভেম্বর) গাজীপুর চৌরাস্তা কেন্দ্রীয় ঈদগাহে গাজীপুর ওলামা সামিটে এ দাবি জানান তিনি। জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, গাজীপুর জেলা শাখা এর আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, উৎপাদনের প্রধান শক্তি শ্রমিক। শ্রমিকের শ্রম ও ঘামেই পণ্য তৈরি হয়। সেই শ্রমিকের বেদনা ও কষ্টের ওপরে দাঁড়ানো কোনো অর্থনীতি টেকসই হতে পারে না। আধুনিক অর্থনীতির হিসেবেও শ্রমিক শ্রেণিকে নিষ্পেষণ করলে তাদের ক্রয় ক্ষমতা কমে যায়, সামগ্রিক অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে।

ইসলাম শ্রমিকের শরীর থেকে ঘাম শুকানোর আগেই তার মূল্য পরিশোধ করার কথা বলেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যাদের কষ্ট ও শ্রমে অর্থ তৈরি হয় তাদেরকে জুলুম করলে জুলুমের ওপরে কোনো অর্থনীতি দাঁড় হয় না। তাই সরকারকে বলব, পোশাকখাতের শ্রমিকদের নিম্ন মজুরি নির্ধারণে ইনসাফের প্রতি লক্ষ রাখুন ও মানসম্মত জীবন ধারণ করার মতো মজুরি নির্ধারণ করুন।

চরমোনাই পীর বলেন, পোশাক শ্রমিকরা যে বেতন-ভাতা পান, তা দিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। দুই মাসেও মাছ গোশত খেতে পারছে না। কেউ কেউ মাছ গোশতের গন্ধও ভুলে গেছেন বলে গণমাধ্যমে জানাচ্ছেন। অথচ তাদের শ্রমের ওপরে দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। সরকারকে বলব, শুধু ব্যবসার কথা ও মালিকপক্ষের কথা চিন্তা না করে এই খেটে-খাওয়া মানুষদের কথাও বিবেচনা করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে আদতে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মুক্তি নাই। মানুষের মুক্তির জন্য একমাত্র সমাধান হলো ইসলাম। আমরা ইসলামকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য আন্দোলন, সংগ্রাম করছি। সমাজ সংস্কারে আলেমদের এগিয়ে আসতে হবে।