ঢাকা-৬ আসনে ভোটকেন্দ্র ও থানার ওসি পরিবর্তনের দাবি ইশরাকের

ঢাকা-৬ আসনের কসমোপলিটন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভোটকেন্দ্র ও সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছেন আসনটির বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এই আবেদন জানান।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ইশরাক হোসেন বলেন, দুটি অভিযোগ দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে এসেছি। আমরা সেটি মৌখিকভাবে জানিয়েছি। এ ব্যাপারে ইসির ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি এবং অ্যাডজুডিকেশন কমিটি কাজ করবে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।
অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের আসনে কসমোপলিটন স্কুল নামে একটি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। আমাদের বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৪ জানুয়ারি রাতে ওই কেন্দ্রে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৫২ পিস স্ট্যাম্প উদ্ধার করে। ওই ভবনটির মালিকানায় রয়েছে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী। আবার সেখানে জকসুর সম্ভবত একটি ক্লাব রয়েছে। সেই ক্লাবের দরজা ভেঙে ওই মোটা স্ট্যাম্পগুলো পুলিশ উদ্ধার করে।
ইশরাক হোসেন আরও জানান, আমরা বেশ কিছুদিন ধরে এমন অভিযোগ পেয়ে আসছিলাম। আমরা সেটা বিভিন্ন মাধ্যমে থানাকে অবহিত করার পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে আমি নিজেই ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সূত্রাপুর থানার ওসির সঙ্গে কথা বলি এবং উনি তখন আমাকে জানান যে, তিনি ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু তিনি ভবনে গিয়ে মালিক পক্ষকে সতর্ক করে দেন। এরপর ওখানকার স্থানীয়রা ভবনটির সামনে অবস্থান করলে ওসি সেখানে গেলেও ভবনে প্রবেশ করেননি। পরে আবারও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা ভবনে প্রবেশ করে এবং বস্তায় মোড়ানো ১৫২ পিস স্ট্যাম্প পান।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে দুটি আবেদন করেছি। একটি হলো নির্বাচনের আগে যদি কেন্দ্রে এই অবস্থা হয় তাহলে সেই কেন্দ্রে কীভাবে নির্বাচন করব। সে জন্য কেন্দ্র পরিবর্তন করতে আবেদন জানিয়েছি। আরেকটি হলো সূত্রাপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত অভিযোগ রয়েছে। তাকেও পরিবর্তন করতে আবেদন জানিয়েছি। তবে কমিশন তার আইন অনুযায়ী এবং সময়সহ সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা-৬ আসনের এই প্রার্থী বলেন, এতদিন পর্যন্ত অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু আমার আসনের এই ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ইশরাক বলেন, পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ। তারপরেও তপশিল ঘোষণার পরদিন শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এখন পর্যন্ত এর কোনো সুরাহা দেখলাম না। গতকালকেও তার বিচারের দাবিতে যারা আন্দোলন করল তাদের ওপরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তবে নির্বাচন পরিস্থিতি ঢাকাতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
কোনো ধরনের সংঘাত চাই না জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। বিভিন্ন সময় আমাদের, সিনিয়র নেতাদের এবং আমাকেও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়েছে। শুধু আমাকে না, আমার মৃত বাবাকেও এখানে টেনে নিয়ে আসা হয়েছে। তারপরেও কিন্তু আমরা সেগুলো ভ্রূক্ষেপ করিনি। কারণ আমরা মনে করছি এগুলো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটা ষড়যন্ত্র।
প্রশাসনের ভূমিকায় সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, প্রশাসন কোথাও কোথাও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েছেন। আবার যেমন সূত্রাপুর থানার ঘটনাটিতে নিরপেক্ষ দেখা যায়নি।