logo

বিএনপি আমার সঙ্গে মুনাফেকি করেছে: জুনায়েদ আল হাবিব

বিএনপি আমার সঙ্গে মুনাফেকি করেছে: জুনায়েদ আল হাবিব
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। ছবি: তার ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তার অভিযোগ, নির্বাচনে জমিয়তের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিএনপি আন্তরিকভাবে কাজ করেনি। বরং দলটির কিছু নেতা-কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে প্রকাশ্যে ও গোপনে কাজ করেছেন।

সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ‘বিএনপি আমার সঙ্গে মুনাফেকি করছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের নির্বাচনি পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে সেখানে ইসলামপন্থি দলগুলোরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের সময় বিএনপির একটি অংশ রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করায় এবং আরেকটি অংশ দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করায় জমিয়তের প্রার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

জুনায়েদ আল হাবিবের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ ঘরানার প্রায় ৩০ শতাংশ নেতাকর্মীকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন আশ্বাসের মাধ্যমে নিজের পক্ষে নিয়েছিলেন রুমিন ফারহানা। এ ছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন বিলবোর্ড স্থাপন, জীবন্ত হাস নিয়ে মিছিল এবং প্রশাসনের সহায়তায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও করেন তিনি।

তার আরও দাবি, নির্বাচনের দিন তার নিশ্চিত বিজয়ের সম্ভাবনা থাকা কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছিল।

বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকার প্রসঙ্গে জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, ইসলাম ও দেশের স্বার্থে আলেম সমাজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়ে কাজ করেছে। দেশের বিভিন্ন আসনে আলেম-ওলামাদের সমর্থনে বিএনপির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তার মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনেও বিএনপি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে জমিয়তের প্রার্থীকে বিজয়ী করা সম্ভব ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দলটি সে উদ্যোগ নেয়নি।

এদিকে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রসঙ্গেও কথা বলেন জুনায়েদ আল হাবিব। তিনি জানান, হেফাজতে ইসলাম ও বিভিন্ন ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি লিয়াজোঁ কমিটি কাজ করছে।

তার বক্তব্য, বৃহত্তর ইসলামি প্ল্যাটফর্ম যদি কোনো একক রাজনৈতিক দলের জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত মেনে বিএনপির জোট ছেড়ে দিতেও প্রস্তুত রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।