শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হবে: খেলাফত মজলিস আমির

শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি হবে বলে জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। তিনি বলেন, দেশের শ্রমজীবী মানুষ আজও তাদের পূর্ণাঙ্গ অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ মালিক ও শ্রমিকের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া যে কোনো প্রতিষ্ঠানকে অর্থনৈতিকভাবে সফল করতে পারে।
শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শ্রমিক মজলিস আয়োজিত ‘ন্যাশনাল লেবার রিপ্রেজেন্টেটিভ কনভেনশনে’ এ কথা বলেন তিনি।
আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, প্রত্যেক শ্রমিকের তার শ্রম অনুযায়ী ন্যায্য ও যৌক্তিক মজুরি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। শ্রমিকের জন্য কাজের একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা মালিকপক্ষ বা নিয়োগ কর্তার অন্যতম দায়িত্ব। শ্রমিকের নিয়মিত বিশ্রাম, সাপ্তাহিক ছুটি ও কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক ওভারটাইম হিসেবে পরিশোধ করা মালিকপক্ষের দায়িত্ব।
চুক্তি অনুযায়ী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ সম্পাদন করা শ্রমিকের নৈতিক দায়িত্ব জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার শিকার হলে শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা প্রাপ্তি, স্বাস্থ্য ও মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রাপ্তির অধিকার রয়েছে।
শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করতে মালিকপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে ইসলাম, বলেন খেলাফত মজলিসের আমির। তিনি বলেন, শ্রমিকের সাধ্যের অতিরিক্ত কাজের বোঝা না দেওয়া, মানবিক ও সম্মানজনক আচরণ করা, বিশ্রাম ও ইবাদত করার সুযোগ এবং কাজের সুনির্দিষ্ট চুক্তির বিধান রয়েছে ইসলামে।
তার মতে, ইসলামি অনুশাসন মেনে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেই দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জিত হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা যতদিন প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন সংগ্রাম চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, শিশুদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বা বাধ্যতামূলক শ্রমের কাজ বন্ধ করতে হবে। আসন্ন কোরবানি ঈদের আগেই শ্রমিকদের সব বেতন-ভাতা আদায় করতে হবে। ঈদে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে।
শ্রমিক মজলিসের সভাপতি প্রভাষক মুহাম্মদ আবদুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিস মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মাওলানা নোমান মাজহারী, যুগ্ম-মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মুফতি আবুল হাসান এমপি, সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশন প্রধান ও বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।
