logo

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিতের দাবি বাসদের

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিতের দাবি বাসদের
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) এর দাবি সপ্তাহের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দলটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি জানানো হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য কমরেড জয়দীপ ভট্টাচার্যের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন নির্বাহী ফোরামের সমন্বয়ক কমরেড মাসুদ রানা। বক্তব্য রাখেন, নির্বাহী ফোরামের সদস্য সীমা দত্ত, রাজু আহমেদ ও রাশেদ শাহরিয়ার। উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাব, পল্টন, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম এলাকায় প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

কমরেড মাসুদ রানা তার বক্তব্যে বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছেই। এরই মধ্যে আরেক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। গণশুনানিতে বলা হয়েছিল যে, রেন্টাল-কুইক রেন্টালের বোঝা ও সিস্টেম লস কমালে বিদ্যুতের দাম বরং কমানো যাবে। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। বোরো মৌসুমে কৃষকের ফসল ডুবেছে, কিন্তু ফসল কাটার ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। ফসল বিক্রিতেও কৃষক ঠকছে। শিল্পাঞ্চলে একের পর কারখানা বন্ধ হচ্ছে, বেকার হচ্ছে শ্রমিকরা। এক কথায় সাধারণ মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন আমরা দেখছি না।

তিনি বলেন, অপরদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের কাজ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের যে সব বিষয় ওয়াদা করেছিল, যে সব বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলোও তারা বাস্তবায়ন করছে না। বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামী সংস্কারের বিষয়ে খুব সরব ভাব দেখালেও, সেটা তারা তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার স্বার্থেই করছে। সংস্কার তাদের কাছে রাজনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ার। আওয়ামী লীগ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের সময় কোনো পর্যায়েই জামায়াতের পক্ষ থেকে সংস্কারের কোনো প্রস্তাবনা আসেনি।

সমাবেশে ৭ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো— জ্বালানি তেল-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো, সর্বজনীন রেশনিং চালু করা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি বন্ধ করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গণতান্ত্রিক সংস্কার নিশ্চিত করা, সংবিধানের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিল করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কাজসহ ৬টি মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা, শ্রমিকের ন্যূনতম জাতীয় মজুরি নিশ্চিত, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চিনিকল-পাটকল চালু, কৃষকের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, সার, বীজ, কীটনাশকে পর্যাপ্ত ভর্তুকি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা এবং নারী নির্যাতন, ধর্ষণকারীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।