logo

সংসদ মানুক না মানুক, গণভোটের রায় আদায় করে ছাড়বে ১১ দল

সংসদ মানুক না মানুক, গণভোটের রায় আদায় করে ছাড়বে ১১ দল

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদ মানুক বা না মানুক, গণভোটের রায় আদায় করে ছাড়বে ১১ দলীয় জোট।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

এ সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতার বড়াই করে আবারও জাতিকে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। আমরা এই যাত্রা, কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ। আমরা এগোতে দেব না।

তিনি বলেন, যে দলে গণতন্ত্র নেই তারা দেশ ও জাতিকে কী উপহার দেবে? যে প্রজন্ম গণ-অভ্যুত্থান করেছে, তাদের যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ফ্যাসিবাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেবে।

শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে চব্বিশের বিপ্লবীরা ছুড়ে মেরেছিল বঙ্গোপসাগরে, নালায়, নর্দমায়। এখন কারা নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায়। মনে রাখা দরকার, এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা জেগে উঠলে মাসের পর মাস, বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তাদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদিদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই প্রজন্মের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান এখনো স্পষ্ট। বিরোধী দল তাদের সঙ্গে আছে।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই তার রাজসাক্ষীও পাওয়া গেছে। হ্যাঁ, ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যেতে। কিন্তু কপাল যখন মন্দ, তখন কিন্তু জালে বেঁধে যায়। ঘুঘু তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছ, আবার খাওয়ার চিন্তা কোরো না। এবার এলে ঠিকই তোমার লেজ, ঠিকই তোমার পা, ঠিকই তোমার ডানা অবশ করে দেওয়া হবে।

জামায়াতের আমির বলেন, যে কোনো মূল্যে ফ্যাসিবাদকে রুখে দেওয়া হবে। কোনো দল বা গোষ্ঠী নয়, দেশের জন্য আন্দোলন করবে ১১ দল। সত্য প্রকাশের ভয়ে সংসদে বিরোধী দলের নোটিশ সামনে আসতে দেওয়া হয় না।

তেলের সংকট নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে খাদ্য ঘাটতিতে পড়বে বাংলাদেশ।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান বলেন, যাদের রক্তের বিনিময়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে, অনেকে মন্ত্রী-এমপি হয়ে তাদের ভুলে গেছেন। জুলাইয়ে তরুণেরা প্রাণ না দিলে এখনও লন্ডন থেকে অনেককে দল পরিচালনা করতে হতো। জুলাইকে অস্বীকার করলে দেশের মানুষ চব্বিশের মতো আরেকটা গণ-অভ্যুত্থান করবে। সেই অভ্যুত্থানে জাগপা পাশে থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে বলেছিল, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এখন তারা গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে দিতে চায়। তারা ৫১ শতাংশ জনসমর্থন পেয়ে ৭০ শতাংশ জনসমর্থনের গণভোট বাতিল করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।

আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম অলিউল আনোয়ার। আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।