সরকারকে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান আলালের

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, জাতীয় জীবনে বেশ কিছু সমস্যা প্রকট হচ্ছে, যেগুলো অতীতে ফেলে রাখা অসমাপ্ত কাজের যন্ত্রণা। বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে সরকারকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জনতার অধিকার পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের মাতৃভূমি। আমাদের মা ১০ মাস সন্তানকে শরীরে বহন করেন, কমপক্ষে তিন বছর তাকে বাহুতে আবদ্ধ করে রাখেন, তারপর সারা জীবন তাকে হৃদয়ের মধ্যে, অন্তরে ধারণ করে রাখেন। তো সেই মাতৃভূমি যদি মা হয়, মায়ের প্রতি দায়িত্ব অনেক বেশি থাকে সন্তানদের।
তিনি আরও বলেন, আজকে জাতীয় জীবনে বেশ কিছু সমস্যা প্রকট হচ্ছে, যেগুলো অতীতের ফেলে রাখা অসমাপ্ত কাজের যন্ত্রণা। সেই যন্ত্রণার মধ্যে বিশেষ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এই তিনটি দিকে সরকার মনোযোগ দিচ্ছে। আরও বেশি মনোযোগ এবং যত্ন নেওয়ার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন পর্যায় থেকে সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি আছে—এমন কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। তবে হ্যাঁ, সমন্বয়টা আরও জোরদার হওয়া উচিত। আরও বেশি আত্মসমন্বয়ের ব্যাপারটা কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিভিন্ন রায় নেওয়া উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাপনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে এবং কিছু উদাহরণ সৃষ্টি করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা নতুন অধ্যায় শুরু করে দিয়েছেন। যেমন—তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকারি বাড়িতে ওঠেননি, সরকারি গাড়ি নেননি। তিনি সরকারি প্রটোকলের অর্থ সাশ্রয়ের জন্য প্রটোকলের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছেন। চারটি গাড়ি ছিল, সর্বশেষ সেখান থেকে আরও কমিয়ে বর্তমানে দুটি গাড়ি আছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ট্রাফিক সিগন্যালে ঠিকভাবে দাঁড়িয়ে যান। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের মাঝখানে চলে যান। সকল প্রটোকল ভেদ করে প্রধানমন্ত্রী শুক্র-শনিবার নিজে অফিস করেন।
আলাল বলেন, তার নিজের যে ভাতা, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে যে ভাতাটা আসে, সেখান থেকে ১০ শতাংশ তিনি সরকারের জাকাত প্রতিষ্ঠানে দান করেছেন। এই উদাহরণগুলো তার টিমে যারা আছেন, মন্ত্রিপরিষদে যারা আছেন, অন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারাও যদি অনুসরণ করেন, তাহলেও এটা একটা ভালো স্রোতধারা বয়ে যাবে একদম তৃণমূল পর্যন্ত।
তিনি বলেন, সেখানেও মানুষ বুঝবে যে না, আপাতত কিছুদিন আমাদের কষ্ট করতে হবে। সেই কষ্টের রেশটা যাতে খুব বেশি দীর্ঘস্থায়ী না হয়, সেজন্য আমার মনে হয় ওনার টিমে যারা আছেন, তাদের এই নিজস্ব কাজগুলো—যেগুলো প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, সেই কাজগুলোর ধারাবাহিকতায় তাদেরও এই ধরনের কিছু কর্মকাণ্ড করা উচিত।
প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে আলাল বলেন, আমরা বলব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলেন, সচিবালয় বলেন, শিক্ষাকেন্দ্র বলেন, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা বলেন—এখানে তো অতীতের ফ্যাসিস্টদের রেখে দেওয়া উচ্চপদস্থ যারা আছেন, তারা তো কিছু কিছু রয়েছেন। তাদেরকে যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রাখা উচিত এবং তাদের ব্যাপারে যে পদক্ষেপ যখন নেওয়া দরকার, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সেটা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান ও দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনসহ প্রমুখ।



