নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে জুলাই সনদ কলুষিত করা হয়েছে: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অনেক কষ্টের ফসল এবং জুলাই জাতীয় সনদকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলী চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে ঐকমত্য কমিশনকে চাপ দিয়ে সনদের পাশে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়ানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে যখন সংস্কারের আলোচনা আসলো তখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে আমরা বলেছিলাম, আমরা নতুন সংবিধান চাই, সংবিধান পুনর্লিখন চাই। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচনে মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে চায়। ৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। তখন আমরা একটা মধ্যমপন্থায় আসি। সেখান থেকে ঐকমত্য কমিশন, সংবিধান সংস্কার, এসবের আলোচনা হয়। গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ করার কথা। এখন বিএনপি যদি সে জায়গা থেকে সরে যায়, আমাদেরও আগের জায়গায় ফেরত যেতে হবে। আমরা নতুন সংবিধান অথবা সংবিধান পুনর্লিখন চাই।’
বিরোধীদলী চিফ হুইপ বলেন, ‘জুলাই সনদ যেদিন স্বাক্ষর করা হয়েছিল, আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি সেদিন স্বাক্ষর করিনি। পরেও আমরা স্বাক্ষর করেছি বলা যায় না, সেখানে আমরা আমাদের মতামত দিয়ে এসেছি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অনেক কষ্টের ফসল জুলাই জাতীয় সনদকে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে। স্বাক্ষরের দিন একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পাশে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জুলাই সনদকেও অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত করা হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর কথা বলতে গিয়ে নাহিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িওনি। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম এ রাষ্ট্রপতির অপসারণ প্রয়োজন। তাকে গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। তার কোনো অধিকার নেই এখানে থাকার। রাষ্ট্রপতি এস আলমের কাছে ইসলামী ব্যাংককে তুলে দেওয়ার কারিগর; তিনি কোটি কোটি আমানতদারকে পথে বসিয়েছেন।’
রাষ্ট্রপতির অধীনে শপথ নেওয়ার বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘তখনকার প্রেক্ষাপট ও এখনকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তখন আমরা বলেছিলাম জাতীয় সরকার গঠনের কথা। সে সময় বিএনপি সেটা নাকচ করে দিয়েছিল। আমাদের কাছে আরেকটি অপশন ছিল আর্মির কাছে ক্ষমতা তুলে দেওয়া। যদি সেদিকে আগাতাম বিএনপি আজ সংসদে বসতে পারত কি না সন্দেহ। দেশের স্বার্থে, স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সেদিন সরকারে গিয়েছিলাম।’