‘আইন বাতিল হলে ১৩ তারিখ থেকে গুমের কোনো সংজ্ঞাই থাকবে না’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
তিনি বলেন, যে প্রধানমন্ত্রী নিজে নির্যাতনের শিকার, তারা কেমন করে এ আইন বাতিলের পরামর্শ দেয়? আমাদের আবেদন, আইনটি যদি পরিশোধিত করতে চায়, তার আগে অনুমোদন দিয়ে আইনে পরিণত করুক। পরে সংশোধিত করা হোক। যদি সেটা না করা হয় তাহলে ১২ তারিখে, এই আইনটি বাতিল হয়ে গেলে ১৩ তারিখ থেকে গুমের কোনো সংজ্ঞা-ই থাকবে না।
রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যসূচিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ কথা বলেন তিনি।
সংসদ সদস্য আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, অন্ধকার ঘরে পিঁপড়া ও টিকটিকির সঙ্গে কথা বলতাম। আমি আজ এখানে দাঁড়িয়ে আছি একটি অন্ধকার ঘর থেকে ফিরে এসে। সেখানে আমার সঙ্গী ছিল কেবল পিঁপড়া আর টিকটিকি; আমি তাদের সঙ্গেই কথা বলতাম।
তিনি আরও বলেন, বাইরে দিন না রাত-তা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। মনে হতো আমাকে জীবন্ত কবর দিয়ে রাখা হয়েছে। সেই দুর্বিষহ জীবনের চেয়ে মৃত্যুও হাজার গুণ ভালো ছিল।
মীর আহমাদ বিন কাসেম জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। দীর্ঘ ৮ বছর ‘আয়নাঘরে’ গুম থাকার পর ২০২৪ সালের আগস্টে মুক্তি পান।