logo
Advertisement

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলের দাবি ইসলামী আন্দোলনের

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন বাতিলের দাবি ইসলামী আন্দোলনের
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। বৃহস্পতিবার দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। ছবি: ইসলামী আন্দোলন সৌজন্যে

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেছেন, মুসলিম হিসেবে শরিয়া আইন মানার সুযোগ তৈরির বদলে শরিয়া আইনকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে দিতে পারি না। আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনুন। সমস্যা সমাধানের নামে কোনো অবস্থাতেই শরিয়া অমান্য করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে কোরআনে বর্ণিত ইসলামের অকাট্য একটি বিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সরকার কখনও এমন কোনো আইন করতে পারে না, যা নাগরিকের ধর্ম পালনে বাধা সৃষ্টি করে। বর্তমান সরকারও কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন করবে না বলে বারংবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই সরকার শরিয়াবিরোধী আইন পাশ করেছে।

সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি ইসলামি শরিয়ায় বিস্তারিত বলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ উত্তরাধিকার আইনকে যত বিস্তৃতভাবে বর্ণনা করেছেন, তা অন্য কোনো বিধানের ক্ষেত্রে করেননি। সম্ভাব্য সব প্রকার ও পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে পরিবারের প্রথম স্তর (সন্তান ও তৎসম্পর্কিত), দ্বিতীয় স্তর (বাবা-মা, ভাই-বোন ও তৎসম্পর্কিত), তৃতীয় স্তর (দাদা-চাচা ও তৎসম্পর্কিত)-সহ সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক বন্ধন ও দায়িত্ববোধ বিবেচনা করা হয়েছে। ফলে এখানে নতুন করে কোনো পদ্ধতি সংযোজন করার দরকার নেই। সুযোগও নেই।

দলের নায়েবে আমির বলেন, শরিয়াকে অমান্য করে হেবার বিধানে পরিবর্তন করা যাবে না। সেই অধিকার ইসলাম কাউকে দেয়নি। বরং সর্বত্র শরিয়া মান্য করার মানসিকতা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার বলছে, হেবা সংক্রান্ত আইন বহাল থাকবে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে দান বা গিফটের আরেকটি পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে। এখানে দুটা বিষয়। একেকটি মুসলিম দেশে শত বছর ধরে প্রচলিত একটি শরিয়া সমর্থিত আইনকে বাইপাস করার সুযোগ রাষ্ট্র কেন তৈরি করবে? মুসলিম হিসেবে শরিয়া আইন মানার সুযোগ তৈরির বদলে শরিয়া আইনকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ আমরা তৈরি করতে দিতে পারি না।

জীবনস্বত্ব রেখে যে হেবা করার সুযোগ রাখা হচ্ছে, তা আদতে হেবা হচ্ছে না বলে জানান ফয়জুল করিম। তার মতে, সেটা অসিয়ত হচ্ছে। কিন্তু ওয়ারিসদের জন্য কোনো অসিয়ত নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়ে দিয়েছেন, সুতরাং কোনো ওয়ারিশের জন্য অসিয়ত নেই।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২১২০)

তার মতে, এই আইনের মাধ্যমে মানুষকে এমন একটা সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, যার ব্যবহারে মানুষের জান্নাতের উত্তরাধিকার বাতিল হয়ে যাবে।

এই আইনের বিষয়ে দেশের আলেমসমাজ আগেই ভিন্নমত পোষণ করেছেন জানিয়ে ফয়জুল করিম বলেন, সেখানে শরিয়া সংক্রান্ত একটি বিষয়ে খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের রেফারেন্স ব্যবহার করে শরিয়া বিরুদ্ধ আইন প্রণয়ন করা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জ্ঞানীয় সম্পদের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা। এর মাধ্যমে সরকার দেশের উলামাদের অপমান করেছে।

তিনি বলেন, হেবার পরে সম্পত্তি থেকে বাবা-মাকে উচ্ছেদের ঘটনা রোধ করতেই হবে। সেজন্য আমাদের সমাজে, সংস্কৃতিতে ও শিক্ষায় বাবা-মায়ের প্রতি সন্মানের ধারণাকে গ্রোথিত করতে হবে। ইসলামের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুবয়সেই ধর্মীয় চেতনা জাগরুক করতে হবে। আমাদের ঐহিত্য অনুসারে একান্নবর্তী পরিবারের ধারণা আবারো ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের প্রতি কর্তব্য অবহেলাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচনা করে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই বাবা-মা সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করতে চান না। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। সমস্যা সমাধানের অনেক উপায় আছে। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে শরিয়াকে আরেকবার অমান্য করা যায় না।

আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীকে কথাবার্তায় আরও মার্জিত হতে হবে। এই আইন নিয়ে তিনি যেভাবে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তা শোভনীয় নয়। তিনি ব্রিটিশ ও পশ্চিমা আইনে বিজ্ঞ হতে পারেন কিন্তু শরিয়া আইন ও তার তৎপরতা নিয়ে তার চেয়ে উলামায়েকেরামের প্রাজ্ঞতা বেশি। ফলে শরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে উলামায়েকেরামের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।