ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে মশক নিধনের পরিকল্পনা সম্ভব নয়: আসিফ মাহমুদ

ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে মশক নিধনের পরিকল্পনা সম্ভব নয় উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের সম্ভাব্য ফ্লোরিডা সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, মশক নিধনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে অভিনব ধারণা পাওয়া যেতে পারে, এ ধরনের মন্তব্য দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। আমার কাছে এটি হাস্যকর মনে হয়েছে।
তিনি বলেন, মশক নিধন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত পদ্ধতি নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন।
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে এমন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, যা মশার ডিম ও লার্ভাকে লক্ষ্য করে কাজ করে, কিন্তু অন্যান্য প্রাণী ও পরিবেশের ওপর তুলনামূলক কম প্রভাব ফেলে।
দেশে প্রচলিত ফগিং পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর বিকল্প প্রযুক্তি নিয়ে ভাবার সুযোগ আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মশার জীবনচক্রের নির্দিষ্ট পর্যায়কে লক্ষ্য করে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। মশক নিধন একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়। নতুন প্রযুক্তি বা কার্যকর সমাধান গবেষণাগার ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসে। ডোবার পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের সমাধান পাওয়া যায় না।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, সুযোগ পেলে পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়, এমন পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করছেন।
সম্প্রতি মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চেয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের এই বিদেশ সফরের অনুমোদন দেননি। মশা নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই, দেশেই সন্ধ্যার পর কোনো ডোবার পাশে অবস্থান করলে মশা নিধনের উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব বলে অভিমত দিয়েছেন তিনি। গত সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মশা নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ও ফ্লোরিডা রাজ্যে একটি কারখানা ও একটি ল্যাব পরিদর্শন করতে চেয়েছিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদল। এই দলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলামের থাকার কথা ছিল। তাদের সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তাকে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, মশকনিধন উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শনের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানে ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস এলএলসির অর্থায়নে সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন ও পাঁচজন কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা যাওয়ার প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়।
ওই সারসংক্ষেপ পাঠানো হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশনা দিয়েছেন, ‘মশকনিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যেকোনো ডোবার পাশে দু–তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশকনিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের প্রয়োজনীয়তা ও জনস্বার্থের বিষয়টি নতুনভাবে বিবেচনার বার্তা হিসেবে দেখছেন।
