logo
Advertisement

জিসানকে উদ্ধারে পুলিশের দায়সারা আচরণের অভিযোগ শিবিরের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
জিসানকে উদ্ধারে পুলিশের দায়সারা আচরণের অভিযোগ শিবিরের
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান আহম্মেদ প্রধানকে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর লাকসাম জংশন এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় নিখোঁজ থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

Advertisement

এ ছাড়া জিসানের পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। অপহরণকারীদের ফোন নম্বরসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছে থাকা সত্ত্বেও পুলিশের ভূমিকা বেশ রহস্যজনক বলেও অভিযোগ আনা হয়।

শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব অভিযোগ করেন।

জিসানকে উদ্ধারের আগে বিবৃতিতে নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ‘জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজের পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে অবহিত করা হয়। তবে কোনো ফল না পাওয়ায় আজ ভোরে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় থানায় যান। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সকাল ৯টায় তারা পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান। উদ্ধারের বিষয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলেও পুলিশ দায়সারা আচরণ করে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে। আমরা আশা করেছিলাম, ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অথচ পুলিশের এমন রহস্যজনক আচরণ উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।’

নেতারা আরও বলেন, ‘একটি চক্র জিসানকে অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে এবং যে ফোন নম্বর ব্যবহার করে মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছে, সেটিও এখনো সক্রিয় রয়েছে। অপহরণকারীদের ফোন নম্বরসহ সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রশাসনের কাছে থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও পুলিশ হেডকোয়ার্টার, পুলিশের আইজিপি ও র‍্যাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত সন্ধান ও উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাই আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তার পেছনে কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না কিংবা অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’

নেতারা বলেন, ‘স্বৈরাচার-উত্তর বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ও পুলিশের রহস্যজনক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ঘটনা দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভঙ্গুর অবস্থারই প্রতিফলন।’

এদিকে জিসানকে উদ্ধারের বিষয়টি শুক্রবার রাত ১০টা ২০ মিনিটে এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী কামরুন্নাহার লাকী।

বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসান জানিয়েছেন, দাউদকান্দি মডেল মসজিদের সামনে থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছিল।

জিসান বলেন, ‘আমি মডেল মসজিদের সামনের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় একটি গাড়ি আমার সামনে এসে থামে। এ সময় কয়েকজন আমাকে টান দিয়ে গাড়ির ভেতরে ঢুকিয়ে নেয়। এরপর থেকে আমি আর কিছু বলতে পারি না বা মনে করতে পারছি না।’

এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাকী এশিয়া পোস্টকে বলেন, জিসানের নিখোঁজ হওয়া এবং উদ্ধারের পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা চিকিৎসার জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠিয়েছি বাকিটা দাউদকান্দি থানা দেখবে। ওনারা পরবর্তী কার্যক্রম আইনিভাবে করবে।

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী বলেন, উদ্ধারের পর জিসান হাসপাতলে চিকিৎসারত আছেন। কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায় গাড়ি শনাক্তসহ বাকি আপডেট আগামীকাল সংবাদ সম্মেলনে জানা হবে।