কর্নেল অলিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার কারণ ব্যাখ্যা দিলেন নাহিদ ইসলাম

আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কেন তাকে এই ঐক্যের সর্বসম্মত প্রার্থী করা হলো, তার পেছনে মূল কারণ ব্যাখ্যা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং তাদের প্রার্থী হবেন একজনই। সেই অভিন্ন প্রার্থী হিসেবেই এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রার্থী বাছাইয়ের কারণ তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘কর্নেল (অব.) অলি আহমদ একজন বর্ষীয়ান, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং দেশের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। বর্তমান জটিল রাজনৈতিক সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে ১১ দল তাকেই সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করছে।’ তাঁর অভিজ্ঞ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের চলমান সংকট নিরসনের পথ সুগম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ প্রণয়নের সময় রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল। সেখানে একটি নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব রাখা হয়, যেন দলমত নির্বিশেষে একটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত করা যায়। পাশাপাশি ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়গুলোও সনদে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১১ দলের মূল প্রত্যাশার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর গণভোটের ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার কথা ছিল। এরপর একটি সংস্কার পরিষদ গঠন করে সংস্কারকৃত নতুন সংবিধানের অধীনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে চরম ক্ষোভ ও অভিযোগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম।
সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, সরকার গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ হয়নি, এমনকি কোনো অধিবেশনও আহ্বান করা হয়নি। উল্টো রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ক্রমাগত দলীয়করণ করা হচ্ছে, যা থেকে নির্বাচন কমিশনও বাদ পড়েনি।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দল প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই তাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু তা না করে তাকে আরও ছয় মাসের অতিরিক্ত সময় পদে বহাল রাখা হয়েছে।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে কোনো ধরনের জবাবদিহিতা বা বিচারের আওতায় না এনে ‘ফ্রি এক্সিট’ দেওয়ার একটি চেষ্টা চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কেন তার মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হলো এবং এর পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক নীলকশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে গভীর জনমনে সংশয় রয়েছে।’
ভবিষ্যতে নিরপেক্ষ বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে এবং তা কীভাবে নির্ধারিত হবে, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তের কারণে দেশজুড়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অনিশ্চয়তার জন্ম হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিএনপির অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে ক্ষমতার পালাবদলের সময় নিজেদের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার প্রবণতা দেখিয়েছে বিএনপি। তাদের এই রাজনৈতিক কৌশলের কারণেই বারবার দেশে গভীর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
.png)


