৬ মাসে বিএনপির হাতে বিরোধীদলের ৬ নেতাকর্মী খুন: জামায়াত সেক্রেটারি

বিএনপি নেতা-কর্মীদের হাতে গত ছয় মাসে বিরোধী দলের ছয়জন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, অতীতে যেভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নৃশংস কায়দায় হামলা চালাত, ঠিক সেভাবেই এখন হামলা চালাচ্ছেন সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা। এই হামলা থেকে সংসদ সদস্যরাও রেহাই পাচ্ছেন না।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বিএনপি সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, রফিকুল ইসলাম খান এমপি, হামিদুর রহমান আজাদ ও মাওলানা আব্দুল হালিমসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে এবং বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু সরকারি ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের পাওয়া তথ্য উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ তৈরি করছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) তথ্যের বরাত দিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, প্রথম ১০০ দিনের মূল্যায়নে মার্চ-এপ্রিল সময়ে ৬০৫টি হত্যা, ২৯৪টি ছিনতাই, ১৯৬টি অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশজুড়ে ৬৯ থেকে ৮০টি মব সহিংসতার ঘটনায় ৩১ থেকে ৪২ জন নিহত হওয়ার তথ্যও টিআইবি তুলে ধরেছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক পর্যালোচনায় মার্চ থেকে মে—এই তিন মাসে ৯১৫টি হত্যা মামলা, ৪৬১টি ডাকাতি, ২৮৬টি অপহরণ, ৩ হাজার ২৭৭টি চুরি এবং ৫ হাজার ৪৪৮টি নারী ও শিশু নির্যাতনের তথ্য পাওয়া যায়। শুধু মার্চ-মে ২০২৬ সময়েই ৯১৫টি হত্যা মামলা নিবন্ধিত হয়েছে; যেখানে পুরো ২০২৫ সালে এর সংখ্যা ছিল ৭৬৭ এবং ২০২৪ সালে ছিল ৭৯৪টি। একই সঙ্গে মব ও রাজনৈতিক সহিংসতা, নারী-শিশু নির্যাতন এবং সম্পত্তিসংক্রান্ত অপরাধ উচ্চ পর্যায়ে থাকার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষ, দখল, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও অঙ্গসংগঠনের নাম অভিযোগ হিসেবে এসেছে। আমরা কাউকে কেবল অভিযোগের ভিত্তিতেই অপরাধী ঘোষণা করছি না। তবে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় যেন কোনো ব্যক্তিকে আইনি বা প্রশাসনিক সুবিধা না দেয়। অপরাধীর পরিচয় রাজনৈতিক নয়—আইনের চোখে সে কেবলই অভিযুক্ত একজন অপরাধী।
তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অবসান ঘটবে। কিন্তু গত ছয় মাসের বাস্তবতায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।



