logo

জামায়াত নেতা তাহেরকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জামায়াত নেতা তাহেরকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। পরে তার বক্তব্যের জবাবে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি আজ নতুন করে আবিষ্কার করলাম, জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শিশু মুক্তিযোদ্ধা। তাকে আমি স্বাগত জানাই।’

স্পিকারের উদ্দেশে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি সবাইকে সম্মান প্রদর্শন করতে কসুর করি না। আমাদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান দাবি করেন, সেটা আমার ভালো লাগে। কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাও ওই পাশে আছে।’

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংজ্ঞাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছেন, তারাই বীর মুক্তিযোদ্ধা। সংসদীয় আইনে এটা সাব্যস্ত। এই জাতীয় ইস্যু নিয়ে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করা জাতির জন্য সম্মানজনক নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন, অথচ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে দ্বিধায় থাকেন, ইতিহাসের আকাশে যারা তারা হয়ে আছেন, তাদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০২৪-এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ফসল।

সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববাসী বাংলাদেশের নির্বাচনকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং কোনো ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রমাণ পায়নি। যারা এই বিজয়কে খাটো করতে চান, তারা আসলে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। কোনো একক শক্তি নয়, বরং ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত অংশগ্রহণে ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি কখনোই জুলাই সনদ থেকে বিচ্যুত হয়নি। বরং কিছু দল নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও বিএনপি বরাবরই জনগণের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ছিল।’

তিনি বলেন, অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। যেকোনো বড় সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি রায়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেই বিএনপি গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিল। জাতীয় সনদ নিয়ে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানান তিনি।