logo

ইতিহাসে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট ফিরে আসার নজির নেই: আমান উল্লাহ আমান

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ইতিহাসে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট ফিরে আসার নজির নেই: আমান উল্লাহ আমান
জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে আমান উল্লাহ আমান। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, ইতিহাসে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট আর ফিরে আসতে পারেনি, শেখ হাসিনাও ফিরে আসতে পারবেন না।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আমান উল্লাহ আমান বলেন, বিএনপি দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে জনগণের পাশে ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে জিয়া পরিবারের ভূমিকা রয়েছে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযান এবং মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, তার স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আমানুল্লাহ আমান বলেন, ওই সময় দেশে নিরাপত্তাহীনতা ও খাদ্যসংকট ছিল। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে দেশকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলেন।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ১৯৮২ সালে সামরিক শাসন জারির পর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দেন। শহীদ জিহাদ ও ডা. শামসুল আলম খান মিলনসহ আন্দোলনে নিহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়।

বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। এ সময় তিনি দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীর গুম ও হত্যার শিকার হন।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও জনগণের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য। এসময় কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

বর্তমান সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই নেতা বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন, মানুষের কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে আমানুল্লাহ আমান বলেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শক্তি আবার ফিরে আসার চেষ্টা করছে। এ ধরনের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের নজির ইতিহাসে নেই। এ সময় তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন।

আমানুল্লাহ আমান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যেভাবে মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, একইভাবে দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আমান বলেন, জনগণের সেবায় মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকতে হবে, যাতে কেউ গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানতে কিংবা পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে।

তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপরাধে জড়িত কাউকে দেখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন মেনে চলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আমির হোসেন আমিরের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফুসহ মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।