Advertisement
বিকেএম নেতা

ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলা ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলা ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষকের প্রকাশ্য মৃত্যুদণ্ডকে ‘মধ্যযুগীয়’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দেওয়া বক্তব্য ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ।

Advertisement

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য অপরাধ দমন ও কার্যকর বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের প্রত্যাশাকে অবমূল্যায়ন করেছে।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ঢাকার সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ মন্তব্য বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থতার পরিচায়ক। দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে তিনি হয়তো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন, বিচারহীনতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত জনমনের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছেন না। প্রচলিত বিচারব্যবস্থা বহু ক্ষেত্রে অপরাধ দমন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের মধ্যে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি ক্রমেই জোরালো হয়েছে।

তার মতে, রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশা আসলে সমাজের বৃহত্তর অংশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বিচারব্যবস্থার প্রতি অনাস্থার প্রতিফলন।

বিগত বছরগুলোর নিপীড়ন, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয়ের অভিজ্ঞতা মানুষকে ইসলামি ন্যায়বিচার ও মূল্যবোধভিত্তিক সমাজব্যবস্থার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলেছে। যারা মদিনার সনদের আদর্শে রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলেন, তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে সেই অঙ্গীকারের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন, বলছেন ইউসুফ আশরাফ।

অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বিকেএমের সিনিয়র নায়েবে আমির বলেন, জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা রাষ্ট্র পরিচালনার অপরিহার্য শর্ত। একইসঙ্গে ধর্ষণসহ সব জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত, কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

বৈঠকে নেতারা সম্প্রতি বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। বিচারকদের প্রশাসনিক কার্যক্রম, বদলি, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়াদি নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকলে অধস্তন আদালতের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারকার্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের সঞ্চালনায় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা মাহবুবুল হক ও মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা ও মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাইদ, নির্বাহি সদস্য মাওলানা ছানাউল্লাহ আমেনী, মাওলানা রাকিবুল ইসলাম, মাওলানা জাহিদুজ্জামান প্রমুখ।

বিষয় :