বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের টয়লেট দখল করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়

বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের টয়লেট দখল করে স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়
ছবি : সংগৃহীত

পুরান ঢাকার ধোলাইখাল জলাধার সংস্কারে টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছিল। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সেই টয়লেট দখল করে এবার কার্যালয় বানিয়েছে মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দল।

Advertisement

শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই টয়লেটটিতে ঝুলছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান কার্যালয়ের ব্যানার। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে লিখিতভাবে অভিযোগ জানালেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি ডিএসসিসি।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক রাজিব খাদেমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

জানতে চাইলে সূত্রাপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হাজী মোহাম্মদ নাজিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এটা আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ক্লাব ছিল। সেখানে তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করত, মাদক বিক্রি করত। আপাতত আমরা বসছি। আমাদের কোনো বসার জায়গা ছিল না, মূল দলের পরামর্শে আমরা এখানে বসছি।’

ধোলাইখাল জলাধারকে বলা হয় পুরান ঢাকার ফুসফুস। দীর্ঘদিন ধরে এটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। ২০২৩ সালে ডিএসসিসির তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ঘোষণা দেন, এক বছরের মধ্যে এটিকে হাতিরঝিলের চেয়েও দৃষ্টিনন্দন করা হবে।

ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা ছিল বহুমুখী। জলাধার ঘিরে সুপ্রশস্ত হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর সুযোগ, সবুজায়ন, উন্মুক্ত মঞ্চ, সাংস্কৃতিক চর্চা, ঝরনা, শিশুদের খেলার জায়গা এবং খাবারের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ করে চারু এন্টারপ্রাইজ ও মাসুদ হাইটেক এন্টারপ্রাইজ। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭২ শতাংশ অগ্রগতি দেখিয়ে ১৪ কোটি ছয় লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়।

গত ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কাগজে-কলমে অগ্রগতি দেখানো হয় ৮১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আগামী ৩১ মের মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এই সময়ে আরও ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয় ঠিকাদারকে। কিন্তু কাজের বড় একটি অংশ বাকি রেখেই ৩১ মে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিএসএম কনসাল্টিং ফার্ম নকশায় ভুল করায় সিটি করপোরেশন আরও ছয় কোটি টাকার নতুন একটি প্যাকেজ নিয়েছে। তবে সেই কাজও শুরু করা সম্ভব হয়নি। বাকি কাজ কীভাবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্তও এখনও হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, জলাধার ঘিরে তিন দিকের দেয়ালের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। প্রধান ফটকের কাজ অর্ধেক বাকি। ৬০০ মিটার সড়কের কাজও অসম্পূর্ণ। ২০টি বেঞ্চের কাজ শুরুই হয়নি। সবুজায়নের কাজেও হাত লাগেনি।

প্রকল্পের দুটি টয়লেটের মধ্যে একটির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের টয়লেটের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও সেখানে ফিনিশিংয়ের কাজ আটকে আছে।

ওই টয়লেটের বাইরে ঝুলছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান কার্যালয়ের দুটি ব্যানার। ভেতরে ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের নির্বাচনকালীন ব্যানার।

ব্যানারে ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন হোসেন ও সদস্য সচিব মো. পায়েল শেখের ছবি।

প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারু এন্টারপ্রাইজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জলাধারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের টয়লেটটির অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে ফিনিশিং কাজ শেষ করতে পারছি না। সেখানে ৫ আগস্টের পর থেকেই স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যালয়ের ব্যানার টানিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

এই ইঞ্জিনিয়ার আরও বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, যেন টয়লেটের দখল আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।’