সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত মির্জা আব্বাস

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, ‘২০০৬ সালের পর আজ আবার এ মহান সংসদে দাঁড়িয়ে শুধু একটি কথাই বলতে চাই, আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে।’
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকের এ দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও স্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পেরিয়ে আজ আবার মহান জাতীয় সংসদের এ পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের ও গর্বের মুহূর্ত আর কী হতে পারে।’
গত ১১ মার্চ স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় চিকিৎসার জন্য আমাকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় থাকতে হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সংসদের অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিত হতে পারিনি।’
চিকিৎসা শেষে প্রথমবার সংসদে উপস্থিত হতে পেরে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন মির্জা আব্বাস। একই সঙ্গে অসুস্থতার সময়ে যারা তার জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন এবং পাশে থেকেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অসুস্থতার সময়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। এ জন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি নিজে সিঙ্গাপুরে গিয়ে আমাকে দেখে এসেছেন। একজন সংসদ সদস্যের প্রতি সংসদের স্পিকারের এ মানবিক ও আন্তরিক আচরণ আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এটি শুধু একজন অসুস্থ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা নয়; এটি আমাদের সংসদীয় গণতন্ত্রের মানবিক সৌন্দর্যের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আপনার এ ভালোবাসা ও আন্তরিকতার কথা কোনোদিন ভুলব না।’
জাতীয় সংসদে ফিরে রাজনীতির মানবিক দিকের কথাও তুলে ধরেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘রাজনীতি শুধু মতের পার্থক্য নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য; সংসদ শুধু বিতর্কের জায়গা নয়, এটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’
নিজের নির্বাচনী এলাকা ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জানান, মহান আল্লাহ যেন তাকে সুস্থতা ও শক্তি দেন, যাতে অবশিষ্ট সময় আরও নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন।
সহকর্মী সংসদ সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘তাদের ভালোবাসা, শুভকামনা ও দোয়া আমাকে কঠিন সময় অতিক্রম করতে সাহস জুগিয়েছে।’
মহান আল্লাহ বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ দান করুন, এমন প্রার্থনা জানিয়ে স্পিকারকে ধন্যবাদ দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন মির্জা আব্বাস।



