তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে জাপা চেয়ারম্যানের শোক

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
শোক বার্তায় তিনি বলেন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সোমবার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
মৃত্যুকালে তিনি তার একমাত্র কন্যা ডা. তাসলিমা আহমেদ জামান মুন্নিকে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদ গত বছরের ২০ নভেম্বর মারা যান।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যবৃন্দ, আত্মীয়-স্বজন ও অনুসারীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণকারী তোফায়েল আহমেদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন এবং বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের অন্যতম নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের সমর্থনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ছাত্রনেতা হিসেবে পূর্ব পাকিস্তানের ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি ছিলেন।
তিনি ১৯৭৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত, ভোলা-১, ভোলা-২ ও বাকেরগঞ্জ-১ আসন থেকে মোট আটবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এ ছাড়া ১৯৭৫ সালের পর তিনি ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, বরিশাল, কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর বিভিন্ন কারাগারে প্রায় পাঁচ বছর বন্দি ছিলেন।
একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য হিসেবে জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদীয় বিতর্কে তার বক্তব্য সংসদ সদস্য ও সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিল।
১৯৭০ সালে তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব ছিলেন। তিনি ১৯৯৬ সালের জুন থেকে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০১ সাল পর্যন্ত শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
