স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় সরকারকে সমর্থনের আহ্বান দুদুর

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, গণতন্ত্রের উত্তোলন, স্বাধীনতা রক্ষা এবং মানুষের কল্যাণের স্বার্থে বর্তমান সরকারকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে পাশে দাঁড়াতে হবে।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এমন একজন রাজনীতিবিদ, লেখক ও বুদ্ধিজীবী ছিলেন, যাদের সংখ্যা বাংলাদেশে খুব বেশি নয়। তার লেখা কয়েকটি বই রয়েছে। সেগুলো পড়লে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়।
তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে মওদুদ আহমদ ছাত্ররাজনীতি করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধেও ভূমিকা রেখেছেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিএনপি গঠনে তার অবদান দলের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, পরবর্তী সময়ে মওদুদ আহমদ ভিন্ন ধারার রাজনীতি করেছেন—এ নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা হতে পারে। তবে তিনি একজন দুর্নীতিবিরোধী মানুষ ছিলেন, এটি স্বীকার করতে হবে। তিনি শুধু প্রধানমন্ত্রীই ছিলেন না, এই দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিও ছিলেন।
দুদু আরও বলেন, একসময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি থাকার পরও মওদুদ আহমদ বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় সাধারণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কঠিন সময়ে যখন খালেদা জিয়া দেশকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তখন তার পাশে দাঁড়ানোকে তিনি দায়িত্ব মনে করেছিলেন।
তিনি বলেন, মওদুদ আহমদ কখনও অহংকারে বসে থাকেননি। যখন যে সময় দায়িত্ব পালন প্রয়োজন মনে করেছেন, তখন তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছেন। তিনি ছিলেন নিষ্ঠাবান বক্তা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাবিদ ও দৃঢ়চেতা রাজনীতিবিদ।
শামসুজ্জামান দুদু অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার সরকার মওদুদ আহমদের বিরুদ্ধে নানা মামলা, হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে। তার বাড়ি পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাকে বাড়ির দখলদার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সে সময় দেশের মানুষ বিষয়টি জানলেও সেভাবে প্রতিবাদ হয়নি।
তিনি বলেন, এসব ঘটনার পরও মওদুদ আহমদ তার অবস্থান থেকে কখনও সরে দাঁড়াননি। তিনি যেটিকে সত্য এবং গণতন্ত্রের পক্ষে মনে করেছেন, সেটিই অনুসরণ করেছেন।
দুদু বলেন, মওদুদ আহমদ তাদের সিনিয়র রাজনীতিক ছিলেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের স্নেহ করতেন, ভালোবাসতেন এবং ভুল হলে সংশোধন করে দিতেন।
তিনি আরও বলেন, আজকের সময়ে এমন মানুষের খুব প্রয়োজন ছিল। তিনি চলে গেছেন—এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়। তার আদর্শ ও স্মৃতি এখনো সবার মাঝে রয়েছে। তাকে স্মরণ করে তার জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি, সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন খান পিপিএম, সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদার প্রমুখ।