logo

‘রাজনীতিতে নারীদের জোয়ার শুরু হয়েছে’

‘রাজনীতিতে নারীদের জোয়ার শুরু হয়েছে’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত নারী সংরক্ষিত আসনের প্রার্থী প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ।

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ধারাবাহিক অনুষ্ঠান আলাপনে এসে এসব কথা বলেন তিনি।

মারদিয়া মমতাজ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে একপাক্ষিক ও ভীতিকর পরিবেশ ছিল এবং যেভাবে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের বাইরে সাধারণ মানুষকে কথা বলতে দেওয়া হতো না, সেই অচলায়তন এখন ভেঙে পড়েছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ও বিশেষ করে ইসলামপ্রিয় মানুষদের কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সবসময় নারী অধিকারের দোহাই দিয়ে নারীদের কেবল প্রদর্শনীর বস্তু বা নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সাধারণ শিক্ষিত, গৃহিণী এবং সচেতন নারীদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে এক অভাবনীয় স্বতঃস্ফূর্ততা তৈরি হয়েছে। এটি একটি জোয়ার যা কেবল শুরু হয়েছে এবং এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশের নারীরা জানতেন রাজনীতি কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাজ বা সেখানে যাওয়া নিরাপদ নয়। কিন্তু এখন তারা বুঝতে পারছেন যে, দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যদি যোগ্য, আদর্শবান ও নৈতিকতাসম্পন্ন নারীরা না আসেন, তবে তাদের মৌলিক অধিকারগুলো কখনোই সুরক্ষিত হবে না। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবাসী নারী ইনফ্লুয়েন্সাররা দেশের রাজনীতি ও সংস্কার নিয়ে যেভাবে সোচ্চার হচ্ছেন, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। তাদের এই স্পিরিট প্রমাণ করে যে, নারীরা এখন কেবল দর্শক হয়ে থাকতে চান না, বরং পরিবর্তনের কারিগর হতে চান।

মারদিয়া মমতাজ বলেন, এই জোয়ারটি কেবল সংখ্যার দিক থেকে নয়, বরং গুণগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনকার নারীরা আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজেদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ ধারণ করে কীভাবে দেশের সেবায় ভূমিকা রাখা যায়, তা নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। এই নবজাগ্রত নারী শক্তি যদি সঠিক দিকনির্দেশনা পায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করে, তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীদের প্রতিনিধিত্ব কেবল কোটা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং নারীরা হয়ে উঠবেন রাষ্ট্র সংস্কারের প্রধানতম চালিকাশক্তি।