নির্বাচনে আ.লীগের ভোট চেয়েছে বিএনপি, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কাছে বিএনপি ভোট চেয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতারাই বিভিন্ন আসনে বিএনপিকে জেতাতে সহায়তা করেছেন।’
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগ তুলছে। অথচ নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চাওয়ার বিষয়টি তাদের বক্তব্যেই উঠে এসেছে।’
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতে-পায়ে ধরে ভোট নিয়ে এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।’
নাটোরে বিএনপির এক সংসদ সদস্যও তাদের দলের সাফল্যের পেছনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অবদানের কথা বলেছেন বলে তিনি দাবি করেন জামায়াতের আমির। বিএনপি নিজেদের সাফল্যের জন্য আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ দিচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ আসার অভিযোগ তুলে জামায়াতকে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করার চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘সীমান্ত দিয়ে অর্থ, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ ঠেকানোর দায়িত্ব সরকারের। এসব ঠেকাতে না পারলে সরকার কীভাবে দেশ পরিচালনা করছে?’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। এসব অপরাধ বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধীদলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে।’
বাজার পরিস্থিতি ও কৃষকদের দুরবস্থা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক ও ভোক্তা উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জনগণের সমস্যা সমাধান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে সরকারকে আরও মনোযোগী হতে হবে। শুধু ঘোষণা দিয়ে নয়, বাস্তবে মানুষের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াত ও ১১-দলীয় জোট কোনো দলীয় স্বার্থে আন্দোলন করছে না। তাদের দাবিগুলো জনগণের অধিকার, রাজনৈতিক সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবি আদায়ে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হলেও তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চায় না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’



