বিবি সাওদাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে এমনটা উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোলা জেলা চিফ জুড়িশিয়াল ম্যাজিসেট্রট আদালতে প্রতিবেনটি দাখিল করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল হোসেন খানের দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিজের ফেসবুক আইডি থেকে বিবি সাওদা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তাদের নির্দেশে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে জামায়াতের ভোলা পৌরসভার নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে উপস্থাপন করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
আদালতে দাখিল করা আবেদনে এসআই জুয়েল হোসেন খান উল্লেখ করেন, বিশ্বস্ত সূত্রে এবং সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে জানতে পারি–বিবি সাওদা তার ব্যবহৃত ‘Redmi Note 9’ মোবাইল ফোনে লগইনকৃত ফেইসবুক আইডি ‘Sawoda Sumi’ থেকে রাষ্ট্র এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে এবং নির্দেশনা প্রাপ্ত হয়ে বিবি সাওদার হেফাজত থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। বিবি সাওদা সরকার, রাজনীতি, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সম্পর্কে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। তার মোবাইল ফোনটির কারিগরি সমস্যার কারণে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয়েছে।
বিবি সাওদা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এ শাস্তিযোগ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহ হওয়ায় এবং মোবাইল ফোনটি বা ফেইসবুক পোস্টগুলো পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া তাৎক্ষণিক সম্ভব না হওয়ায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগে আদালতে সোপর্দ করার সুনির্দিষ্ট আইনি নির্দেশনা থাকায় তার মোবাইল ফোনটির পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়নি। তার মোবাইল ফোন এবং ফেইসবুক আইডির পোস্ট পর্যালোচনা শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।